নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট ১ আগস্ট ২০২৬
অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না৷ অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক অ্যাফিলিয়েশন বা দলীয় পরিচয় দেখে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সিলেট অঞ্চলের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও চোরাচালানিদের তালিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে অপরাধীদের পরিচয় সবার জানা। তাই তালিকায় কোনো নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। একইভাবে কোনো প্রকৃত অপরাধীকে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। আগামী এক মাসের মধ্যে এ নির্দেশনার দৃশ্যমান ফলাফল উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
পুলিশ বাহিনীতে রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট নীতি চালু করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেঞ্জ পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে (এসএমপি) এ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-পরবর্তী বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেক মামলার এজাহারে ঢালাওভাবে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করলেও তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কিংবা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে মামলা করেছে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের উদাহরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিবার বাদী হতে না পারলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট অন্য একজন বাদী হয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে আসামি করেছেন। অথচ ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব ছিল।
এ কারণে সিলেট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকার এ ধরনের মামলাগুলো পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন তিনি। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী তদন্ত করে নিরীহ ও অযথা হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দেনদরবার বা অনৈতিক লেনদেন করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধী ও অপরাধের নির্দেশদাতাদের কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না।
মব বা অরাজকতা সৃষ্টির অপসংস্কৃতি সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দাবিদাওয়া আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা কোনো প্রতিষ্ঠান ঘেরাও না করে প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি জানাতে হবে। স্মারকলিপি দেওয়া কিংবা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের নজরে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মবের ঘটনা ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে। সিলেট অঞ্চলকেও সম্পূর্ণ মবমুক্ত রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাধারণ মাদকসেবীদের পেছনে না ছুটে শীর্ষ অন্তত ৫০ জন মাদক কারবারির একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করতে হবে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এ তালিকার ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) লজিস্টিক সংকট দূর করা, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত যানবাহন সরবরাহের ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সিলেটের বালি ও পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আদালতের নির্দেশনা সমন্বয় করে প্রস্তুত করা রেজুলেশন অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে মনিটরিং জোরদারেরও আহ্বান জানান।
সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মালেক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বক্তব্য দেন।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকী সাহা।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের অপরাধ প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং অপরাধীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬