
এম এ রশীদ :
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের স্থান নির্ধারণে এবার প্রশাসনিক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (উত্তর), খাসাড়ীপাড়া জামে মসজিদসহ অন্যান্য স্থান নিয়ে মতবিনিময়ের পর নিষ্কণ্টক ও মুসল্লিবান্ধব জায়গাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনওর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (উত্তর) পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সম্ভাব্য স্থানগুলোর সুবিধা-অসুবিধা, জমির স্বচ্ছতা, মালিকানা, যোগাযোগব্যবস্থা, মুসল্লিদের যাতায়াত এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা এমন একটি জায়গা বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দেন, যেখানে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ বা অন্য কোনো জটিলতার কারণে ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
সভায় ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, শীঘ্রই মডেল মসজিদের স্থান নির্ধারণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, মডেল মসজিদের মতো দীর্ঘমেয়াদি সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্মাণ শুরুর আগেই জমির মালিকানা, দখল, ব্যবহারযোগ্যতা ও যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকা জরুরি। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (উত্তর), খাসাড়ীপাড়া জামে মসজিদসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সভায় কোনো একটি স্থানকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্টদের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত স্থান প্রস্তাব করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে সভায় উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হোসেন (সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য), সমন্বয়ক শাহেদ আহমদ, সচিব জমির হোসাইন, প্রেসক্লাব সেক্রেটারি মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম, রায়হান আলম সাজু প্রমুখ।
বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ কুনু, আব্দুর রউফ (চান্দ আলী), ওলিউর রহমান কাজল, আব্দুল কুদ্দুস, বদরুজ্জামান আলী প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা মনে করেন, মডেল মসজিদের স্থান শুধু জমির প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করলেই হবে না; মুসল্লিদের সহজ যাতায়াত, এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ, ভবিষ্যৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং প্রকল্পের স্থায়িত্বও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এ কারণে নিষ্কণ্টক জমি, স্বচ্ছ মালিকানা ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রাথমিক শর্ত হিসেবে বিবেচনার বিষয়ে মতৈক্য তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শুরুতেই এসব বিষয় যাচাই করে স্থান নির্বাচন করা হলে ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি কমবে।
মতবিনিময় সভার পর এখন মূল নজর উপজেলা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ইউএনওর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে মডেল মসজিদের স্থান নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করবে।
তবে প্রস্তাব পাঠানোই চূড়ান্ত স্থান নির্বাচন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই, সরকারি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। ফলে বিয়ানীবাজারের কাঙ্ক্ষিত মডেল মসজিদ শেষ পর্যন্ত কোন স্থানে বাস্তবায়িত হবে, এখন সেটিই স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।
ইউএনওর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় এবং দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতিকে তাই দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে মডেল মসজিদের স্থান নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬