
সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী।
রাজশাহী মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকার ‘রাইসা টাওয়ার’ নামের একটি ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে অবৈধ সুইমিংপুল ও প্রায় ২০ ট্রাক মাটি ফেলে তৈরি করা ছাদবাগান অপসারণ করতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে এসেছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভবন মালিক আব্দুর রশিদের সরাসরি হুমকি ও প্রতিরোধের মুখে আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দলবল নিয়ে অভিযান শেষ না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
অভিযানকালে আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে ভবন মালিক আব্দুর রশিদ হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে খেয়ে ফেলব। সুইটকে আমি খেয়ে ফেলব।’ ভবন মালিকের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকির ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আরডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোদাগাড়ীর বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বছর দুয়েক আগে অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা রাইসা টাওয়ার নির্মাণ করেন কিন্তু জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা পুরোপুরি লঙ্ঘন করে ভবনের ছাদে একটি সুইমিংপুল তৈরি করেন এবং প্রায় ২০ ট্রাক মাটি তুলে বিশাল ছাদবাগান বানান। এতে পুরো ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অভিযোগ পাওয়ার পর আরডিএ থেকে তাকে একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়ে সুইমিংপুল ও মাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ও আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি দল রাইসা টাওয়ারের ছাদে উঠতে যায়। এ সময় ভবন মালিক আব্দুর রশিদ ও তার লোকজন দলটির পথ আটকে দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে রশিদ চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘ক্ষমতা থাকলে উপরে ওঠেন। আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে আমি খেয়ে ফেলব। সুইটের বড় বাড় বেড়েছে। আমি টাকা দিয়েছি।’ বাগবিতণ্ডা ও চরম উত্তেজনার একপর্যায়ে আরডিএর দলটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের স্থায়ী বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলায়। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। তার বিরুদ্ধে রাসিকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সে অপহরণ, মাদক ও আদম ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটান আব্দুর রশিদ। তার ভবনের দুটি ফ্ল্যাটে জামায়াতের সাবেক এক এমপিসহ দুই নেতা ভাড়া থাকেন বলেও এলাকায় প্রচার রয়েছে।
এ বিষয়ে আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অনুমোদনের বাইরে ভবনের ছাদে ভারি সুইমিংপুল ও মাটি তুলে বাগান করায় ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নোটিশ দেওয়ার পরও কর্ণপাত না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল কিন্তু ভবন মালিক রশিদ আরডিএ চেয়ারম্যানসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভবন মালিক আব্দুর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাজশাহীতে ঝুঁকিপূর্ণ রাইসা টাওয়ার, ছাদে সুইমিংপুল, ২০ ট্রাক মাটি তুলে সবজি বাগান’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬