
আবু বক্কর কক্স বাজার জেলা প্রতিনিধি,
০১ নভেম্বর, ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে ছয় কোটি ৮৮ লাখ টাকা চুক্তি মূল্যের দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালীতে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে সমুদ্রের বালু, লবণাক্ত পানি ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করেছে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা।
এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে এজাহার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। আবার স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, আশ্রয়কেন্দ্রটির ঢালাইয়ের কাজে নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের ২ নম্বর খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে সমুদ্রের বালু ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের অভিযোগও তাদের করা হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে সাগর উপকূলীয় এলাকায়। এতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগের সময় আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। প্রকল্পের সাইনবোর্ডে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেডের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তে আবু বক্কর ছিদ্দিক নামের এক ব্যক্তি মাঠ পর্যায়ে নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন।
এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাবিবুর রহমানের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, নির্মাণকাজের মান নিয়ে আপত্তি জানানোর পর চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করছে তারা। ঠিকাদারের প্রতিনিধি আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকল্পটি সাগরতীরে হলেও তিনি সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি এবং লবণাক্ত বালু ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন চাঁদার দাবি নিয়ে তাঁকে মারধর পর্যন্ত করেছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর শীলখালীতে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজন জানায়, নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্মাণকাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় জনপ্রতিনিধিকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে তারা। এ সময় চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা এজাহার প্রত্যাহার, নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে—গ্রামবাসীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে অসৎ আচরণ শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত গ্রামবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে সেখানে কোনো চাঁদা চাওয়া হয়নি। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী নির্মাণাধীন আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষা করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Abu Yousuf khan...
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬