মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়:
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাররা। পঞ্চগড় বাজারের কামারপাড়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ। দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও কোরবানিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
স্থানীয়রা জানান, অর্ধশত বছর ধরে পঞ্চগড় বাজারের কামারপাড়ায় চলে আসছে এ কর্মযজ্ঞ। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ ঘিরে বাড়ে কাজের চাপ। এবারও ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টানা কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছেন কামাররা।
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির মৌসুমে কাজের চাপ বাড়লেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগের মতো লাভ হচ্ছে না। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।
পঞ্চগড় বাজারের কামার মজিবর বলেন, “সারা বছরই আমাদের কাজ চলে। তবে ঈদ আসলে ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে কাস্টমারদের জিনিসপত্র তৈরি করছি।”
প্রায় ৫০ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত মজিবর রহমান বলেন, “এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। চাইলেও এ পেশা ছাড়তে পারছি না। কিন্তু এখনকার ছেলেরা এসব কষ্টের কাজ করতে চায় না। তাই ভবিষ্যতে এ শিল্প টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”
কোরবানির জন্য ছুরি-চাপাতি কিনতে আসা আনিছুর রহমান মানিক বলেন, “বর্তমানে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই লোহার জিনিসপত্রের দামও বেশি। তারপরও কোরবানির কাজে লাগবে বলে কিনতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও এখনো টিকে আছে কামার শিল্প। তবে নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬