হিলি প্রতিনিধি-
দিনাজপুরের হিলিতে স্কুল ছাত্রীকে উত্যাক্ত করার প্রতিবাদ করলে মেয়ের বাবা ও মামাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে মেয়ের মাসহ তিন নারীকে বাড়িতে বেঁধে রেখে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। রবিবার (৩১ মে) রাত ৯ টায় উপজেলার নয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে মেয়ের বাবা নুরুজ্জামান হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এবং মামা মনোয়ার হোসেনের অবস্থা আশংঙ্খাজনক হওয়ায় তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মেয়ের মা পরদিন সোমবার বখাটে কিশোরকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৭ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মামলা দায়ের এরপর অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।নস্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার লোহাচাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান তাঁর স্ত্রী সন্তানসহ গার্মেন্টসে চাকুরীর সুবাদে ঢাকা গাজীপুর এলাকায় থাকেন। ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ বাড়িতে আসেন। রবিবার পরিবারসহ বেড়াতে শশুরবাড়ি নয়ানগর গ্রামে যান। সন্ধ্যায় তাঁর সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে নাহিদা আক্তার নিশি তার বোন ও বোন জামাইয়ের সাথে পাশ্ববর্তী ডাঙ্গাপাড়া বাজারে ফুচকা খেতে যান। ফুচকার দোকানে নানা বাড়ি গ্রামের সাগর হোসেনের ছেলে আহসান তাকে উত্যাক্ত করে। এতে সেখানে বোন জামাইয়ের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। এরপর বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত আহসান কিশোরী মেয়েকে শ্লীলতাহানি করে। তারা বাড়ি গিয়ে ঘটনাটি পরিবারকে ঘটনা খুলে বললে মেয়ের বাবা-মা ও মামা ওই কিশোরের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বলে ছেলেকে শাসন করতে বলেন। এতে আহসান ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারের লোকজন ও বন্ধু সুজন মিয়াকে নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে কিশোরীর বাবা ও মামা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে কিশোরীর মামি, নানী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তারা কিশোরীর মা, মামি ও নানীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারপিট করতে থাকেন। আহত কিশোরীর বাবা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
কিশোরীর মা ববিতা বেগম বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে ঢাকায় স্বামীসহ গার্মেন্টেসে চাকুরি করেন। দুই ঈদ ছাড়া বাড়ি আসা হয় না। তাই ঈদের তিনদিন পর বাপের বাড়ি যাই। সেখানে ওই বখাটের কারণে আমার স্বামী ও ভাই মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরাতো ঢাকাই ফিরে যাব। আমার মেয়েকে তো আর উত্যাক্ত করাতে পারবেনা। তাই কোন প্রতিশোধ নিতে নয়। ছেলের অভিভাবককে বিষয়টি জানাতে গেছিলাম। এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে নির্যাতন করে মেরেছে। তারা আমার বৃদ্ধ মা, ভাবি ও আমাকে একটি কক্ষে আটকিয়ে মারপিট করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহসানের বাবা সাগর হোসেন গণমাধ্যম কর্মীকে বলেন, তারা আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে আগে মেরেছে। এতে ছেলে ও প্রতিবেশীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর করেছেন। হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ৩ নারী ও দুইজন পুরুষকে আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে মনোয়ার নামের একজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্খাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এবং মেয়ের বাবা নুরুজ্জামানের অবস্থা কিছুটা ভালো থাকায় তাঁর মাথা পাঁচটি সেলাই দিয়ে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও তিনজন নারীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছেলা ফুলা থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠি সোটার কালসিরা দাগ রয়েছে।
হাকিমপুর থানা ওসি জাকির হোসেন বলেন, গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৯ টায় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন পেয়ে উপজেলার নয়ানগর গ্রাম থেকে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় ৫ নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আজ সোমবার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে অভিযুক্ত আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাঁকিদের আটকের চেষ্টা চলছে। জে/এ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬