এম এ রশীদ :
শান্ত এক গ্রাম থেকে আজ অচেনা এক বাজারে পরিণত হয়েছে বিয়ানীবাজার উপজেলার চারাবই বাজার। দিনের যে কোন সময় থেকে রাত অবধি,যানযট নিত্য সঙ্গী হয়ে পড়েছে। জরুরি পরিবারের প্রয়োজনে সকলে ছুটছে বাজারের দিকে। কিন্তু বাজারের চলাচলের রাস্তা পার হওয়া কঠিন দায়। অটোরিকশার রাজত্বের দাপটে সব মানুষ জিম্মি টমটম গাড়ির ড্রাইভারদের কাছে। যানযট ও জনযটের তীব্রতায় নাকাল সকলে,চারাবই বাজার থেকে শালেস্বর বাজার পর্যন্ত ২/৩ টি গ্রামের মানুষ মূল সড়কের পাশের ব্যাবসায়ীরাও অসহায়,রাস্তা পাড়ি দিতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারিরা।
অনেকের প্রশ্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য শেষ হবে কবে? এই রিকশা ঢুকে পড়ায় বিরক্ত এখানকার বাসিন্দা ও চলাচলকারীরা। তারা জানায়,সিগন্যাল ভাঙা, উলটোপথে চলা, যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে ছোটা সবই চলছে নির্দ্বিধায়। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে দ্রুতগতির গাড়ি থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী- সবাই পড়ছে ঝুঁকির মুখে রাস্তায় এত বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা যে, তা নিয়মের মধ্যে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশ বলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধ বাহন, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন নেই। অথচ বিয়ানীবাজারের শালেস্বরে যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় বাধা এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা। 'আমাদের স্বাভাবিক ট্রাফিক পুলিশিং কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।চারাবই মোড়ে হরহামেশা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঢুকে পড়ছে। সিগন্যাল, রুট কিছুই মানে না। মানতেও চায় না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, অনুমোদনহীন অটোরিকশার কারণে বিয়ানীবাজারের শালেস্বর সড়ক দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। অদক্ষ চালক, অনিয়ন্ত্রিত গতি ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন সড়কে দ্রুতগতিতে বাড়ছে অটোরিকশার সংখ্যা, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বর্তমানে বেশিরভাগ দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে এসব অটোরিকশা চিহ্নিত হচ্ছে। একসময় হাতে গোনা কয়েকটি অটোরিকশা থাকলেও কয়েক বছরের ব্যবধানে চালকদের মতে, এ সংখ্যা অনেক ছাড়িয়েছে। ফলে সড়কে তাদের আধিপত্য বেড়ে যাওয়ায় প্রাণহানি ও বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা চালিয়ে রেস করে, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে যত্রতত্র স্ট্যান্ড করে রাখা হয় এসব রিকশা। এতে সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষের। অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও। তাই দ্রুত অনুমোদনহীন এসব অটোরিকশা বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা চান এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে যত্রতত্র স্ট্যান্ড করে রাখা হয় এসব রিকশা। এতে সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষের। অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও। তাই দ্রুত অনুমোদনহীন এসব অটোরিকশা বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা চান এলাকাবাসী। এসব রিকশার কারণে বেড়েছে বিদ্যুৎ চুরিও। যা প্রতিহত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এ বিষয়ে কেউ কোন ভূমিকা না নেয়ার কারণে এলোমেলো অটো পাকিং করে যাত্রী পরিবহন করায় এ যানযট এখন মানুষের হয়রানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে টমটম গাড়ির জন্য নির্ধারিত কোন স্ট্যান্ড না থাকার কারণে প্রধান সড়কসহ চৌরাস্তাগুলো অনির্ধারিত স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে।এখানে কার্যকরি ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় আরো বিপাকে পড়েছে বাজারে আসা ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শালেস্বর (দুবাই) বাজার থেকে চারাবই চৌরাস্তা পর্যন্ত টমটম অটোর জন্য নির্ধারিত কোন ভাড়া করা হয়নি, টমটম ড্রাইবার তাদের ইচ্ছামত প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে,তাছাড়া অনেকের অভিযোগ তারা পেসেঞ্জারের সাথে খারাপ আচরণ করে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যাটারি বা মোটরচালিত রিকশা বা ভ্যান বা অনুরূপ শ্রেণির থ্রি-হুইলার চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিআরটিএর যান্ত্রিক যেকোনো যানবাহন সড়কে চলাচলের জন্য বিআরটিএর লাইসেন্স,রুট পারমিট ও ফিটনেস নিতে হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের শালেস্বরে ইদানিং ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিমাণ বেড়ে গেছে। তারা রিকশা চার্জ দিচ্ছে। আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে চার্জিং স্টেশন করার সুযোগ নেই।
সরেজিমনে দেখা গেছে, সড়কে অধিকাংশ রিকশা চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। হঠাৎ ইউটার্ন, উল্টোপথে চলাচল,হঠাৎ থেমে যাওয়া এবং দ্রুতগতিতে প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
গরমের মধ্যে নারী,শিশুরা অনেক কষ্টে হেঁটে চলাচল করেছে। এতে মহিলা ও শিশুরা চরম হয়রানির শিকার হয়েছে। বিয়ানীবাজার থেকে কেনাকাটা করতে আসা প্রবাসীর স্ত্রী জানান, প্রচন্ড গরমের মধ্যে উপজেলা শহর থেকে কেনাকাটা করে শালেস্বর বাজার থেকে চারাবই বাজারে যাবো ভাবছি টমটমে যাবো কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো শালেস্বর(দুবাই) বাজারে কোন টমটম গাড়ি নেই। দুই বাচ্ছা নিয়ে অনেক কষ্টে প্রায় ১ ঘন্টা হেটে দুই কিলোমিটার রাস্তা চারাবই বাজার হয়ে বাড়ি ফিরি। চারাবই বাজার এসে দেখি এখানে ৮/১০ টা টমটম রাখা, ড্রাইভাররা চারাবই বাজারে হোটেলে বসে চা পান করছে আর আড্ডা মারছে, ঐ প্রবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ আমরা বিয়ানীবাজার পৌরশহর থেকে এটা মনে করে আসি (দুবাই) বাজার এসে টমটম পাবো তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে যাবো,যদি দুবাই বাজারে তাদেরকে পাওয়া না যায় তাহলে এখানে টমটম দিয়ে কি করবো। অনেকের অভিযোগ টমটম গাড়ীর ড্রাইভার তাদের ইচ্ছা মত চালায়। টমটম অটোর জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড নেই, কোথায় কত বাড়া তা নির্ধারণ করা নেই,সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন চারাবই,গড়ুয়া, ও শালেস্বর এলাকার সাধারণ মানুষ। এখানে কোন নিয়ম কানুন নেই, যে যাহার মতো করে চলে। আগত মানুষের কষ্টের শেষ নেই। নম্বর ও লাইসেন্স বিহীন অনভিজ্ঞ টমটমচালকরা সারা বাজারে নিজেদের খেয়াল খুশি মত যত্রতত্র গাড়ি পাকিং করে যাত্রী পরিবহন করছে। গাড়ি ও ড্রাইভারদের লাইসেন্স ও নম্বর না থাকায় টমটম চালকদের কোন ট্রফিক জ্ঞান ও দায়বদ্ধতা নেই,সে জন্য অনভিজ্ঞতার কারনে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাবসায়ীরা জানান,সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যাবস্থা না নেয়ার কারনে ক্রেতা,ব্যাবসায়ীরা চরম হয়রানি পোহাচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬