আজিজুর রহমান, মুন্না, সিরাজগঞ্জঃ
সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জেলার রাজনীতিতে অখ্যাত ও অপরিচিত মুখ ইঞ্জিনিয়ারমোঃ সাইফুল ইসলাম শাহীন।
বৃহস্পতিবার (৪জুন-২০২৬খ্রি.) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের (জেলা পরিষদ শাখা) উপ-সচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহীন উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নেট লাহিড়ী মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা বিএনপি'র একাধিক সূত্র জানান, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি'র রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপরিচিত সাইফুল ইসলাম শাহীন। তিনি কখনো কোন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেননি, রাজনৈতিক কোন মামলাও তার বিরুদ্ধে নেই। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরি করেন এবং বেশ টাকা ও পয়সার মানুষ বলে অনেকেই জানান। তার মতো একজন ব্যক্তির জেলা পরিষদ প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনা অবাক করার মতো বিষয় বলে দলের নেতাকর্মীরা বলেন। এদিকে ত্যাগী ও নির্যাতিত সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের টপকিয়ে রাজনীতিতে অপরিচিত মুখকে জেলা পরিষদ প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে। হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি-র নেতা বলেন, জেলায় অনেক সিনিয়র নেতারা রয়েছেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে ৬০/৭০টি মামলা খেয়েছেন, মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়ে হামলার শিকারও হয়েছেন। সেইসব সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে যাকে কেউ কোনদিন দেখেনি তেমনি একজন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদে প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসানো হলো। এর ফলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা উঠে যাবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এ নব নিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহীন নিজ উপজেলা উল্লাপাড়া, মোহন ইউনিয়নের লাহরিমোহনপুর গ্রামে ঠিকানা বলে জানা যায় । উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপি যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদস্য সচিব আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, সাইফুল ইসলাম শাহীনকে আমি রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলাম। রাজনীতির মাঠে তার ওই রকম ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। উনি কয়েকটি গার্মেন্টেসের সিইইও পদে চাকরি করেন। আমি তাকে উদ্বুদ্ধ করে রাজনীতিতে নিয়ে এসে নেতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই। এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডেডিগেশন দিয়ে লাভ, মানুষ আজ হতাশ হয়ে পড়ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, তিনি রাজনৈতিক মামলা খাওয়া, জেল খাটা কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন এমনটা আমার জানা নেই। ওনাকে ম্যাক্সিমাম নেতাকর্মী চেনেন না। আমিও তাকে দেখি নাই, তিনিও আমাকে দেখেননি। তিনি বলেন, এই নিয়োগের ফলে নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সহ-সভাপতি সাবেক ভিপি শ্রী অমর কৃষ্ণ দাস বলেন, যাকে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব হলো, তাকে আমরা কখনো দেখি নাই, চিনিও না। এবিষয়ে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমি জেলার সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) হিসেবে অনেককেই চিনি, ওনাকে ও আমি চিনি। আপনারও জানেন কে কোথায় ছিল। নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহীন এর জেলা রাজনীতিতে কোন ভূমিকা ছিল কিনা এমন প্রশ্নের মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে দলের সভাপতিকে প্রশ্ন করতে বলেন। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সভাপতি রুমানা মাহমুদ বলেন, আমি ওনাকে চিনি। আন্দোলন সংগ্রামে অর্থের যোগান দিতেন তিনি। তবে প্রচারে আসেননি। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম শাহীনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬