
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ-
মাদকাসক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য নষ্ট করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামের দৃষ্টিতে মাদক এমন একটি হারাম বস্তু, যা মানুষের বিবেক, জ্ঞান ও নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দেয়। এ জন্যই ইসলাম সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণকারী শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাক, যাতে তোমরা সফল হতে পার।” (সূরা আল-মায়িদা: ৯০)
মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে তার আত্মসম্মান, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক মর্যাদা হারিয়ে ফেলে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সে চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সমাজে অস্থিরতা ও অপরাধ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় মাদকাসক্ত সন্তান বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে ওঠে, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং পরিবারের সুখ-শান্তি নষ্ট করে দেয়। মাদক মানুষের ইবাদত-বন্দেগির ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উদাসীন হয়ে পড়ে। তার হৃদয় থেকে আল্লাহ ভীতি কমে যায় এবং পাপাচারের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এ ভাবে মাদক একজন মানুষকে ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে নেশা সৃষ্টি হয়, তার অল্প পরিমাণও হারাম।” এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলামে মাদকের কোনো বৈধতা নেই। মাদক থেকে দূরে থাকা শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি ঈমান রক্ষারও অপরিহার্য অংশ।
দুনিয়াতে মাদক মানুষের জন্য অপমান, দারিদ্র্য, রোগব্যাধি ও অশান্তি বয়ে আনে। আর আখিরাতে আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে কঠিন জবাবদিহি ও শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা মাদক থেকে দূরে থাকি, আমাদের সন্তানদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করি এবং একটি মাদকমুক্ত, সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি।
মনে রাখতে হবে, ক্ষণিকের নেশা কখনো স্থায়ী সুখ দিতে পারে না; বরং তা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত-উভয় জীবনকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। “মাদককে না বলুন, আল্লাহর আনুগত্য ও সুস্থ জীবনের পথে চলুন।” জে/এ
