বিধান চন্দ্র সান্যাল
"এক বিন্দু রক্তের তরে,
বোনটি আমার যাচ্ছে মরে,
একটি শিশু জন্ম নেবে, আজ গোধুলীর পরে।
রক্ত বিনে বোনটি আমার সইছে কত জ্বালা।
বোনটি সবার চোখের মনি, করো না'ক হেলা। "
-হারুন অর রশিদ
মানবদেহের জীবনধারণের মূল চাবিকাঠি হলো রক্ত। কোনো কারণে শরীরে রক্তের অভাব দেখা দিলে তা কেবল অন্য একজন সুস্থ মানুষের রক্ত দিয়েই পূরণ করা সম্ভব। কারণ, রক্ত কোনো কারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায় না। এই সত্যটিকে মাথায় রেখে এবং নিরাপদ রক্ত সরবরাহের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত হয়। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের (যিনি রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেছিলেন) জন্মদিন স্মরণে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা, বড় অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন জটিলতা, অথবা ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। এই দিবসটি জরুরি পরিস্থিতিতে রক্তের অভাব পূরণের গুরুত্ব তুলে। ধরে। অর্থের বিনিময়ে রক্ত কেনাবেচা বন্ধ করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এই দিবসের প্রধান লক্ষ্য। নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং রক্তবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। যারা নিয়মিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন, তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
রক্তদান শুধুমাত্র গ্রহীতার জীবনই বাঁচায় না, বরং রক্তদাতার নিজের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। শরীরের অতিরিক্ত আয়রনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তদান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ, হিমোগ্লোবিন এবং অন্যান্য রোগের পরীক্ষা হয়ে যায়। অস্থিমজ্জা (bone marrow) নতুন রক্তকণিকা তৈরি করতে উদ্দীপ্ত হয়, যা শরীরকে সতেজ রাখে। প্রতি বছর ১৪ জুন পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রক্তদাতাদের সম্মান জানাতেই এই দিবসের সূচনা। আধুনিক রক্ত সঞ্চালনের জনক ও নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টাইনারের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের ইতিহাসটি মূলত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। ২০০৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (IFRC), আন্তর্জাতিক রক্তদাতা সংস্থা ফেডারেশন (IFBDO) এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব ব্লাড ট্রান্সফিউশন (ISBT) যৌথভাবে প্রথম বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন করে। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫৮তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে ১৯২টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে দিনটিকে বার্ষিক আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করে।দিনটি ১৪ জুন নির্ধারণ করার মূল কারণ হলো অস্ট্রেজিয়ান বংশোদ্ভূত জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টাইনারের জন্মবার্ষিকী (১৮৬৮ সালের ১৪ জুন)। তিনি ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের গ্রুপ (A, B, AB, O) আবিষ্কার করেন, যার জন্য ১৯৩০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন। তাঁর এই আবিষ্কার নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের ভিত্তি স্থাপন করে ছিল। ২০২৬ সালের বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের থিম বা প্রতিপাদ্য হলো: "One Drop of Humanity. Give Blood. Save Lives."। বাংলায় যার ভাবার্থ দাঁড়ায়-"মানবতার এক ফোঁটা। রক্ত দিন। জীবন বাঁচান।" বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই থিমের মাধ্যমে প্রতিটি রক্তদানের পেছনে নিহিত মানবতা, সহানুভূতি এবং সংহতিকে তুলে ধরেছে।
"এক ফোঁটা রক্ত, বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ"-এই আপ্তবাক্যটি মনে রেখে আমাদের সকলেরই উচিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসা। ধর্ম, বর্ণ বা জাতির কোনো ভেদাভেদ না রেখে মানবতার সেবায় রক্তদান হতে পারে সবচেয়ে মহৎ কাজ। বিশ্ব রক্তদান দিবস আমাদের সেই দায়িত্ব ও মানবিকতার কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। জে/এ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬