সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী-
রাজশাহী ১৮ জুন ২০২৬ খ্রি. রাজশাহী বিভাগে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৭১৭ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিয়োজিত জনবলের সংখ্যা ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর চূড়ান্ত ফলাফল অবহিতকরণ এবং স্ট্যাটিসটিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার (এসবিআর) বিষয়ক এক বিভাগীয় কর্মশালায় আজ বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টায় কর্মশালার আয়োজন করে বিবিএস। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. গোলাম সাকলাইন এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. জাকির হোসেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দু'টি জোনাল অপারেশনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সকল প্রতিষ্ঠান ও খানা লিস্টিং এবং ১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউ (সিএপিআই)পদ্ধতিতে ব্যবহার করে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এ তথ্য সংগ্রহে ৮৭ হাজার ৪১৯ জন গণনাকারী, ১৬ হাজার ৯৩৪ জন সুপারভাইজার, ২২৭৭ জন জোনাল অফিসার ও ২৫৭৭ জন আইসিটি সুপারভাইজারের অংশগ্রহণ করেন।
আইসিএমএস এবং বিবিএস এর নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার এর মাধ্যমে শুমারির তথ্য সংগ্রহকালীন রিয়েল টাইম ডাটা মনিটরিং করা হয়। শুমারির তথ্যের গুণগত মান যাচাই করার জন্য বিআইডিএস কর্তৃক পোস্ট ইনুমারেশন চেক পরিচালনা করার মাধ্যমে শুমারি সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান রাজশাহী পরিসংখ্যান বিভাগীয় কার্যালয়ের যুগ্ম-পরিচালক মো. আব্দুল হালিম। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন বিবিএস গত ৭ এপ্রিল জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই ফলাফল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠন, গবেষক ও অন্যান্য অংশীজনের কাছে তুলে ধরতেই বিভাগীয় পর্যায়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয় বলেও জানান তিনি।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে পরিসংখ্যানগত তথ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বিবিএসের চলমান স্ট্যাটিসটিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার (এসবিআর) কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিসংখ্যান কার্যক্রমে অংশীজনদের সহযোগিতা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। স্ট্যাটিসটিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার বিষয়ে তিনি জানান, অর্থনৈতিক শুমারি থেকে প্রাপ্ত সব বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এসবিআরের আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবিএসকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. গোলাম সাকলাইন বলেন, রাজশাহীতে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। ভবিষ্যতে কীভাবে এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিবিএসকে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এ কাজে রাজশাহী চেম্বার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে অতীতে প্রতিষ্ঠিত অনেক শিল্পকারখানা কেন বন্ধ হয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখে সেখান থেকে উত্তরণের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। উন্মুক্ত আলোচনায় রাজশাহী ইটভাটা মালিক সমিতির প্রতিনিধি মো. সদরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হলে তা ব্যবসায়ীদের জন্য উপকারী হবে বলে মতামত দেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ফয়জুল কবির বলেন, পরিসংখ্যান হলো তথ্য উপস্থাপনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রাজশাহীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ কম। এ অঞ্চলে কীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে আর কোনো আলোচনা না থাকায় সভাপতি কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। জে/এ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬