এমএফএইচ রাজু | ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় গ্রাহকদের জমা দেওয়া বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৭০ লাখ টাকার হিসাব গরমিল এবং সংশ্লিষ্ট এক ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস সিকিউরিটি কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ভাণ্ডারিয়া শাখায় নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী উজ্জ্বল মিস্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তাকে নিয়মিতভাবে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে বসিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিলের অর্থ গ্রহণ করানো হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, উজ্জ্বল মিস্ত্রী এবং ওজোপাডিকোর ভাণ্ডারিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট কর্মীর যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ যথাযথভাবে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি। পরে হিসাব পর্যালোচনায় বিপুল অঙ্কের অর্থের গরমিল ধরা পড়ে।
সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিল আদায়ের হিসাব নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং অডিটের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও দীর্ঘ সময় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উজ্জ্বল মিস্ত্রী গত ১৮ জুন সর্বশেষ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ গ্রাহকের জমা দেওয়া প্রায় ৭০ লাখ টাকার হিসাব গরমিল শনাক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৫ জুন শুক্রবার ৬২২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫১ টাকা এবং ৬ জুন শনিবার ৫২৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৬ টাকা আদায় করা হয়। এসব অর্থের তথ্য সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনা প্রকাশের পর গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাদের জমা দেওয়া অর্থের নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
ভাণ্ডারিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হোসেন সন্যমত জানান, ঘটনাটি তদন্তে ব্যাংক ও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ওজোপাডিকোর বরিশাল পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নির্দেশনায় আঞ্চলিক হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ভাণ্ডারিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মিঠুন সাহার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি দাপ্তরিক কাজে শাখার বাইরে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফজলুল হক মনোয়ার । নির্বাহী সম্পাদকঃ অধ্যাপক আবদুল জলিল । বার্তা সম্পাদকঃ এনামুল হক
সম্পাদনা পরিষদেঃ গোলাম মোস্তফা । সাইফুল ইসলাম নাবিল । কে এম আনোয়ার হোসেন । হাসানুল আহসান রীমন ।
প্রধান কার্যালয়ঃ সোনামুখী বাজার, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ।
যোগাযোগঃ ০১৮১৮-৫১৪৩১৩, ০১৭৪০-৯৯২৩২১, ০১৭১২-৩৮৫৪৪১ নম্বরে।
ইমেইলঃ badwipnews@gmail.com
সর্বস্ব সংরক্ষিত বদ্বীপ নিউজ © কপিরাইট – ২০২৬