
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া হাজারী সড়কের বেহাল দশা কাটাতে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের নির্দেশে সাবেক বরুমচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস চৌধুরীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে এ সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। এতে সড়ক ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর বরুমচড়া হাজারী সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়কটির কার্পেটিংয়ের দায়িত্ব পান ঠিকাদার মো. আমিন। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজের দায়িত্ব দেন।
সাব-ঠিকাদারদের দাবি, কাজ শুরুর পর তারা প্রায় ৬৪ লাখ টাকার কাজ করলেও এলজিইডি থেকে বিল পেয়েছেন মাত্র ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিটুমিনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে বিটুমিনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে এলজিইডির ১০৭টি সড়কের টেন্ডার বাতিল করা হয়। এর মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার হাজারী সড়কসহ সাতটি সড়ক রয়েছে।
যুবদল নেতা আহমদ নুর বলেন, ঠিকাদাররা বিল না পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে চলে গেছেন। বৃষ্টিতে হাজারী সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এমপির নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ শুরু করা হয়েছে। জনগণের ভোগান্তি দূর করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
উপজেলা বিএনপি নেতা মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, হাজারী সড়কের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি এমপিকে জানানো হলে তিনি জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের নির্দেশ দেন। এরপর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সড়কের মেরামতকাজ শুরু করেছেন।
আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম বলেন, বরুমচড়া হাজারী সড়কসহ আনোয়ারার সাতটি সড়কের কাজ ঠিকাদাররা না করায় টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। শিগগিরই এসব সড়কের জন্য নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
সংস্কারকাজ শুরুর সময় মোহাম্মদ ইউনুস চৌধুরী, মোহাম্মদ আনিছুর রহমান চৌধুরী, আহমদ নুর, মোহাম্মদ আবুল কাসেম সাওদাগর, মোহাম্মদ সেন্টু, মোহাম্মদ কামাল মাস্টার, মোহাম্মদ জামাল, মোহাম্মদ ওসমান, মোহাম্মদ মনিরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।