
রামু গর্জনিয়া ও নাইক্ষ্যৎছড়িতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাজত্ব: জুনু বাহিনির অস্ত্রের মহড়া ও চোরাচালানে দিশেহারা গর্জনিয়াবাসী
মোঃ মোরশেদ, (জেলা প্রতিনিধি) কক্সবাজার।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ইউনিয়ন এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী সীমান্তজুড়ে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও জোড়া খুনের পরোয়ানাভুক্ত আসামি আলমগীর হোসেন ভুলু, তার ভাই মিজানুর রহমান এবং কুখ্যাত ডাকাত জুনায়েদ প্রকাশ জুনু ডাকাত ও তার বাহিনীর ভয়াবহ দাপটে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও অশান্তি বিরাজ করছে। সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও তারা কীভাবে গর্জনিয়া-বাইশারীকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
মা কারাগারে, তবুও বহাল তবিয়তে দুই ভাই ভুলু ও মিজান। স্থানীয় সূত্র ও তথ্যমতে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বিল এলাকার আমির হোসেনের দুই ছেলে আলমগীর হোসেন ভুলু (২২) এবং মিজানুর রহমান (২০)। তারা উভয়েই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (এর ৮/৩০ ধারা) এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিভিন্ন গুরুতর অপরাধসহ জোড়া খুনের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
আলমগীর হোসেন ভুলু ও মিজানুর রহমান এর মা লায়লা বেগম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মা কারাগারে থাকলেও দুই ভাই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জারাইল্লাছড়ি ও বাইশারী দক্ষিণ মোড়া এলাকায় প্রতিনিয়ত তাদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়। জোড়া খুনের আসামিরা কীভাবে এভাবে এলাকায় দস্যুবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সচেতন মহল।
জুনায়েদ (প্রকাশ) জুনু ডাকাতের ত্রাস ও অপরাধ নেটওয়ার্ক
এই অপরাধ সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা হলো বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মঘের খিল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে জুনায়েদ প্রকাশ জুনু ডাকাত। গর্জনিয়া ও বাইশারী সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে সে গড়ে তুলেছে এক দুর্ধর্ষ অপরাধ বাহিনী।
গর্জনিয়া-বাইশারী সীমান্ত অঞ্চলের পাহাড়ি পথ ও দুর্গম এলাকাকে কাজে লাগিয়ে জুনু ডাকাত ও তার বাহিনী খুন, অপহরণ, এবং সশস্ত্র ডাকাতির একচ্ছত্র রাজত্ব চালাচ্ছে। আলমগীর হোসেন ভুলু ও জুনায়েদ যৌথভাবে ঈদগাহ-ঈদগড় ডালা এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’। এই চক্রে রহিম নামের আরেক চিহ্নিত ডাকাতও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এই পুরো সিন্ডিকেটের কারণে গর্জনিয়া ও বাইশারী এলাকা অপরাধের এক নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
সীমান্তে মাদক ও গরু চোরাচালানের ভয়াবহ থাবা ও শুধু ডাকাতি বা অস্ত্র প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ নয় এই চক্রের অপকর্ম। রাতের আঁধারে সীমান্ত পেরিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে এনে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে জুনু বাহিনী ও ভুলু ডাকাত। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু চোরাচালান এবং অস্ত্রের জোর দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমিদখল ও চাঁদাবাজি চালিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে মারাত্মক আঘাত হানছে।
একাধিক ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সাজা ও পাহাড়জুড়ে সশস্ত্র অপরাধের নেটওয়ার্ক থাকার পরও চিহ্নিত এসব অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের রহস্যময় নীরবতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ভুলু-মিজান এবং জুনায়েদ প্রকাশ জুনু ডাকাতের সশস্ত্র বাহিনীর কারণে গর্জনিয়া ও বাইশারীর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা অনতিবিলম্বে যৌথ বাহিনী নামিয়ে এই ত্রাস সৃষ্টিকারী অপরাধী চক্রকে গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।