
এম আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার-
জয়পুরহাট বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত নতুন এবং দেশের নবম ডায়োসিসের প্রথম বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন বিশপ পল গমেজ। শুক্রবার (৫ জুন ) বেনিদুয়ার ধর্মপল্লীতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও ফাদার পল গমেজকে বিশপ পদে অভিষিক্ত করেন। এই সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, ভাটিকানের এম্বাসেডর আর্চবিশপ কেভিন রান্ডাল, ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, দিনাজপুরের বিশপ সেবাষ্টিয়ান টুডুসহ অন্যান্য ধর্মপ্রদেশের বিশপগণ এবং নাটোর নওগা জাতীয় সংসদ আসনের মহিলার সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ৩১৩- আন্না মিনজ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফাদার, সিষ্টার, ব্রতধারি, ব্রতধারীনি, বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশ হতে আগত খ্রীষ্টভক্তগণ ও বগুড়ার সাংবাদিক এই আব্দুর রাজ্জাক। জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশটি রাজশাহী ও দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের ১১টি ধর্মপল্লী নিয়ে গঠিত হয়েছে যার কাথলিক খ্রীষ্টভক্তের সংখ্যা চব্বিশ হাজারের বেশি।

অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নব অভিষিক্ত বিশপ পল গমেজকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট মাইকেল জন গমেজ এবং সেক্রেটারী মঞ্জু মারীয়া পালমা। বিশপ পল গমেজ অভিষেকের পরে প্রথমেই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান এবং পরে ধন্যবাদ জানান পোপ চতুর্দশ লিও’কে। একই সাথে তিনি রাজশাহীর বিশপ, অন্যান্য বিশপ, ও সর্বস্তরের জনগনকে ধন্যবাদ জানান। নবগঠিত জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের কাথিড্রাল হিসেবে জেলা শহর লাগোয়া খঞ্জনপুরের মা মারীয়া আমাদের সহায় ধর্মপল্লীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
অভিষেক অনুষ্ঠানের পরে পোপ লিও এর পক্ষে ভাটিকানের এম্বাসেডর বিশপ গমেজকে ধন্যবাদ জানান।
“পোপ এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনি বিশপ পদে অভিষিক্ত হয়েছেন, আপনাকে ধন্যবাদ।” বলেন এম্বাসেডর তিনি বিশপ গমেজকে সিনোডাল মন্ডলী স্থাপনে মন্ডলীতে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। এর আগে ২৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পূণ্যপিতা পোপ চতুর্দশ লিও নতুন ধর্মপ্রদেশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলের জয়পুরহাট’কে নতুন ধর্মপ্রদেশ হিসেবে এবং সেখানে বিশপ হিসেবে পল গমেজ এর নাম ঘোষণা করেছিলেন। বিশপ পল গমেজ এর জন্ম রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের মথুরাপুর ধর্মপল্লীর খরবাড়িয়া গ্রামে ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬২ সালে। তিনি ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিশপ প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও কর্তৃক যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন। ৬৪ বছর বয়স্ক নতুন বিশপ পল গমেজ তার পালকীয় জীবনে সুরশুনিপাড়া, বেনীদুয়ার, বোর্নী, রাজশাহী কাথিড্রাল ধর্মপল্লিতে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি যীশুনাম গৃহ সুইহারী দিনাজপুরে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি, ১৯৯৮-২০০০ পর্যন্ত ফিলিপাইনের সান্তো টমাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন। এছাড়াও তিনি রমনা সেমিনারীতে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত, বনানী মেজর সেমিনারীতে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন ২০২২ থেকে এবং এখন এই দায়িত্বে বহাল আছেন। জে/এ
