
নাজমুল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার-
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে বেপরোয়া গতি ও অবহেলার কারণে একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল (০৫ জুন) সকাল আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের মাঝ পকেটে থাকা ‘করবী’ ফেরির ওপর দিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার এবং হেলপারসহ অজ্ঞাতনামা বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের গাংনী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘এস. বি সুপার ডিলাক্স’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫৬৪৯) নামের যাত্রীবাহী বাসটি সকাল ০৯:২৫ ঘটিকায় দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ রোডে পৌঁছায়। এ সময় দায়িত্বরত নৌ-পুলিশের কনস্টেবল এবং ঘাট সংশ্লিষ্টরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার পূর্বে যাত্রী নামানোর জন্য চালককে আহ্বান জানান। বাসে থাকা প্রায় ৩৭-৪০ জন যাত্রী দ্রুত বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে রওনা হন।
যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পরপরই ১ নং আসামি বাসের চালক মো: ঝন্টু আলী (৪৮), ২ নং আসামি সুপারভাইজার মো: আজমল হোসেন (৫৮) এবং ৩ নং আসামি হেলপার শাকিব হোসেন (২২)-এর সহায়তায় বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া গতিতে এপ্রোচ রোড দিয়ে পন্টুনের দিকে নামিয়ে দেন। পন্টুনে থাকা মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়া এবং ফেরিতে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, চালক অবহেলামূলকভাবে গাড়ি চালিয়ে করবী ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পের শিকল ও ক্যাবল ছিঁড়ে বাসটি পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার পরপরই চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার বাস থেকে কৌশলে লাফ দিয়ে নেমে সাঁতরে পন্টুনের কাছে আসলে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ, গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ১১:৫৫ ঘটিকায় বাসটি নদী থেকে টেনে পন্টুনে তোলা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনায় বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের আনুমানিক ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নৌ-পুলিশের এসআই (নি:) মো: আবুজার গিফারী বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ২৭৯/৪২৭/১০৯/৩৪ ধারায় গোয়ালন্দঘাট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।জে/এ
