এম এ রশীদ:

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ৪নং শেওলা ইউনিয়নের অন্তর্গত ৪নং ওয়ার্ড চারাবই দাউদপুরের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দুর করতে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাঁচা রাস্তার সংস্কার কাজ করেছেন দাউদ পুর গ্রামের বাসিন্দারা।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ রাস্তার সংস্কার কাজ করেন তারা। এ জন্য গ্রামের উদ্যমী তরুণরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেছেন। উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ওই গ্রামের নাম চারাবই দাউদপুর । গ্রামটির সাবেক ফুটবল তারকা ফয়সল আহমদের বাড়ি থেকে মাইজপাড়ার রাস্তা সিদ্দিক আহমদের দোকান পর্যন্ত।
প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তাটুকু কাঁচা ছিল,দিনের পর দিন দাউদপুর গ্রামের যুবকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে রাস্তার সংস্কার কাজে। এই গ্রামের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এ পথেই স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় যায়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও মুশকিল হয়ে পড়ে। এলাকার বাসিন্দারা কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এছাড়া নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিতেও দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বর্ষায় রাস্তাটি পুরো কর্দমাক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই গ্রামের যুবকরা আলোচনার মাধ্যমে নিজেরাই রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধ্যমত চাঁদা দিয়ে তহবিল গঠন করেন।
চারাবই /দাউদপুর যুবসমাজ ও গ্রামবাসীর নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের কাজ নিয়মিত প্রশংসিত হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে সাধারণ মানুষ ও যুবকরা মিলে নিজেদের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব করছেন। যুব সমাজ ও গ্রামবাসীর উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রম তরুণ ও যুবকরা দলবদ্ধ হয়ে ভাঙাচোরা ও কাঁচা রাস্তায় মাটি কাটা, বালু ও ইটের খোয়া ফেলার কাজ করেন। তহবিল গঠন করে নিজেদের সাধ্যমতো চাঁদা তুলে বা নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয়।
জনদুর্ভোগ লাঘব করতে বর্ষা মৌসুমে বা দীর্ঘদিনের অবহেলায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া রাস্তাগুলো এভাবে চলাচলের উপযোগী করা হয়। যুব সমাজের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। উপজেলার চারবই/দাউদপুর গ্রামের কাঁচা রাস্তাটির প্রায় এক কিলোমিটারের উপরে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের ৪০-৫০ জন যুবক রাস্তা সংস্কারে কাজ করছেন। কেউ মাটি কাটছেন, কেউ মাথায় করে সে মাটি রাস্তায় ফেলছেন। আবার অন্যরা সে মাটির উপরে বালু এবং ইট দিচ্ছেন, কেউ বা সেসব ইট হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে দিচ্ছেন।
গ্রামের বয়স্ক ব্যাক্তিরা পাশে বসে থেকে তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছেন। পাশেই স্বেচ্ছাশ্রম দেয়া যুবকরাসহ মুরুব্বীদের জন্য মাইজপাড়ার আবুল কালাম পুলাও রান্না করে স্বেচ্ছাশ্রমীদের দেন । দাউদ পুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জ
ক বলেন, গ্রামের কেউ মারা গেলে এই রাস্তা দিয়েই মরদেহ কবরস্থানে নেয়া হয়।
হাটবাজারে যাতায়াতের জন্যও রাস্তাটি একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই রাস্তাটুকু সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই আমরা নিজেরাই টাকা তুলে ইট বালু কিনে রাস্তা সংস্কার করছি। এবং আমাদের গ্রামের যুবকদের এই সুন্দর উদ্যোগ দেখে আমাদের গ্রামের ও অন্যান্য বিভিন্ন গ্রামের প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধারা ও দেশের ব্যবসায়ীগণ অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন। সাবেক শেওলা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আখতার হোসেন খান জাহেদ জানান, রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গ্রামবাসী যেটুকু কাজ করছেন, তাতে আমি অভিভূত। আগামীতে পুরো রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।