
এমএফএইচ রাজু | চট্টগ্রাম | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলার বাদীদের বিশ্বাস অর্জন করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস এবং গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় মামলা করা হয়। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৭০, ৪১৯, ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা অধিগ্রহণের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, মোজাম্মেল হক আগে ইউনিলিভার গ্রুপে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাকরি চলে গেলে তিনি আদালতে যাতায়াত শুরু করেন এবং মুহুরি হিসেবে কাজ করতেন। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার তথ্য, বাদী-বাদিনীর মোবাইল নম্বর ও মামলার আরজির কপি সংগ্রহ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে পিবিআই, সিআইডি বা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের ফোন করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। এরপর গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হতো বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে।
এই মামলায়ও একজন বাদীকে ফোন করে নিজেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দেন মোজাম্মেল হক। পরে গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল হক প্রতারণার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তার সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রতারক চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না এবং তারা এ ধরনের আরও কোনো অপরাধ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।