
এম আব্দুর রাজ্জাক,স্টাফ রিপোর্টার –
আকাশে বাতাশে চারিদিকে বইছে শরৎ এর আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দূর্গা উৎসবের আগমনে বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে বইছে আগাম আনন্দের বন্যা। সারা দেশের ন্যায় বগুড়ার আদমদীঘিতে শারদীয় দূর্গা উৎসবকে সামনে রেখে মন্ডবে মন্ডবে ইতিমধ্যে দেবী দূর্গা’র প্রতিমা তৈরীতে মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মৃৎশিল্পী কারীগর’রা।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্টীর মধ্য শুরু হবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গা পুজা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দেবী দূর্গার পুজো।
বগুড়া জেলার, আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন মন্ডব ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পী কারিগররা বাঁশ,খড়, মাটি, ধানের গুড়া সহ নানা রকম উপকরণ দিয়ে স্বর্গলোকের দেবী দূর্গার প্রতিমা সহ মহাদেব শিব, গনেশ, কার্তিক, লক্ষী, সরস্বতী, সিংহ, ময়ুর, ইদুঁর, পেঁচা তৈরীর কাজে মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মৃৎ শিল্পী কারিগররা। প্রতিমা তৈরীর কারিগররা জানায়, পুজোর আর বেশী সময় নেই। তাই তারা কাঁদা মাটি যুক্ত মাটি দিয়ে নানা ধরনের কারুকার্যে স্বর্গলোকের দেবী দূর্গা সহ তার সঙ্গীদের প্রতিমা তৈরীর কাজ আগে ভাগেই শুরু করেছি। কেননা মাটির তৈরী প্রতিমা গুলো রৌদ্রে শুকিয়ে দিতে হয়। প্রায় মন্ডব গুলোতে মাটির কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরীর কারিগর মৃৎশিল্পী বিশ্বনাথ চন্দ্র বিষু, নিমাই মালী সহ বেশ কয়েকজন প্রতিমা তৈরীর কারিগরদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পুজার আর বেশী দেরী নাই, তাই তারা দ্রুত মাটির কাজ করে যাচ্ছে। মাটি শুকানোর পর রং তুলির কাজ শুরু করবেন।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিত দেবনাথ বাপ্পা ও সাধারন সম্পাদক মিহির কুমার সরকার জানান,এবার আদমদীঘি উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভা মিলে মোট ৬৯ টি মন্ডবে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইতি মধ্যে মন্ডব গুলোতে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে। প্রতিটা মন্ডব কমিটির নের্তৃবৃন্দকে রাতের বেলা প্রতিমাগুলো দেখভালের জন্য পাহারার জন্য পুজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
এছাড়ারও আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো, কামরুজ্জামান মিয়ার তত্বাবধানে প্রতিটি মন্ডবের প্রতিমা সুরক্ষা দিতে ইউনিয়ন বিট পুলিশের দ্বায়িত্বে থাকা থানার পুলিশ অফিসারগন সার্বক্ষনিক প্রতিটি মন্ডব পরিদর্শনের পাশাপাশি পুজা মন্ডবের কমিটির নের্তৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কোন ঘারতি নেই।
উপজেলা প্রশাসন,থানা পুলিশ,বিভিন্ন গয়েন্দা সংস্থা ও রাজনৈতিক নেতারা শারদীয় দুর্গা পুজা শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।