
মোহনপুর প্রতিনিধি
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ির মকসেদ আলীর ছেলে জামিলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ উপজেলাবাসী।
১. গুরুতর অভিযোগ ও মামলার পাহাড়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামিলের বিরুদ্ধে মোহনপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি স্পর্শকাতর মোহনপুর থানা পোড়ানোর মতো গুরুতর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও সে কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
২. পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি
থানায় একাধিক মামলা ও অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও জামিল নিজেকে কখনো পুলিশের সোর্স, আবার কখনো পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। সাধারণ মানুষ তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না।
৩. জনতার হাতে আটক ও নাটকীয় উদ্ধার
আজ স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করলে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। আটকের পর জামিল দাবি করে, সে এসআই ইয়ামিন ও এএসআই আশরাফুল স্যারের সাথে সরাসরি কাজ করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং জনরোষ বা আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করতে জামিলকে তড়িঘড়ি করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন।
কেন এই প্রশ্রয়? বড় প্রশ্ন ও জনমনে ক্ষোভ
কেন একটি চিহ্নিত অপরাধী এবং থানা পোড়ানোর মামলার আসামি প্রকাশ্য পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করার সুযোগ পায়? কেন সাধারণ জনতার হাতে আটকের পর একজন দাগী অপরাধীকে বাঁচাতে পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান?
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আইন সবার জন্য সমান হওয়া সত্ত্বেও কেন জামিলের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পুলিশি ছায়া দেওয়া হয়? এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে মোহনপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।