
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের আন্নর আলী সিকদার হাট এলাকায় সাপমারা খালের ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিজটির স্টিলের পাটাতন ক্ষয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাটাতন দেবে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের বিভিন্ন অংশের লোহার কাঠামোতে মরিচা ধরেছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পাটাতনের বেশ কিছু অংশ দুর্বল ও নিচের দিকে দেবে গেছে। বড় বড় গর্তের কারণে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কাঠের তক্তা বসিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে চরম উদ্বেগ। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রায়পুর ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই ব্রিজ। পূর্ব বরৈয়া টিএমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন ব্রিজটি ব্যবহার করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, পণ্যবাহী যানবাহন, অটোরিকশা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও ব্রিজটির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দারা।
ব্রিজটির বর্তমান অবস্থার কারণে পণ্যবাহী ট্রাক, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাটাতনের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কদম মোবারক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা মোঃ রিদোয়ানুল হক বলেন, “ব্রিজটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে এটি পার হতে হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, ব্রিজটির দুরবস্থার কথা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল চৌধুরী বলেন, ব্রিজটির বেহাল দশার বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে সেখানে একটি টেকসই নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।