
এম আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার –
জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলালের, দেবালয় জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন স্বর্গীয় নীল মাধব দেব । আজ থেকে ৪০০ বছর আগের কথা ক্ষেতলালের “খলিসাগাড়ি স্টেট” তথা এই জমিদার ছিলেন কৃষ্ণা কান্ত দেব ।
কৃষ্ণা কান্ত দেবের ছেলের নাম নীল মাধব দেব । নীল মাধব দেবের দুই সন্তান ইন্দু মাধব দেব আর সুধাংশু দেব । ইন্দু মাধব দেবের কোনো ছেলের নাম জানা যায় নি । ইন্দু মাধব দেবের এক পুত্র বধুর নাম গৌরী রানী দেব ।
সেই হিসাবে নীল মাধব দেবের নাতি বৌ হলেন গৌরী রানী দেব । এই গৌরী রানী দেবের কোনো সন্তান নেই । এখন তিনি এই বাড়িতে থাকেন ।
জমিদার কৃষ্ণ কান্ত নিজ বাড়িতে পূজা করতেন এবং বর্তমানে এখনো ওই বংশের প্রজন্ম পারিবারিক ভাবে দূর্গাপূজা সহ অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন ।
আমরা সাধারণ পঞ্চমী কিংবা ষষ্ঠী থেকে দূর্গাপূজার উৎসবের কথা শুনি কিন্তু এখানে টানা দশ দিন ধরে দূর্গাপূজা পালন করা হয় । অর্থাৎ মহালয়ার পর থেকে প্রতিপদ, দ্বিতীয়া তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী । এভাবে টানা দশ দিন । এভাবে দূর্গাপূজা জয়পুরহাট জেলায় কোথাও হয় না, একমাত্র এটা এখানেই হয় আর পৌরসভার পাঁচ নাম্বার ওয়ার্ডের বকশী পাড়াতে হয় ।
পুত্রবধু গৌরী রানী দেব ১১৮ বছর পর এই মন্দির আবার পুনরায় সংস্কার করেন ।
জমিদারি আমলে বিজয়া দশমীর দিন জমিদার বাড়ির সামনের খোলা মাঠে বসত বিরাট মেলা। মুড়ি, মুড়কির, বাতাসা, খাগড়াই, দই, চিড়া, গোল্লা, মাটির তৈজসপত্র পাওয়া যেত ।
চারশ বছরের সেই পুরোনো মেলা এখনো ক্ষেতলালের খলিসাগাড়িতে (হাসপাতাল সংলগ্ন) বসে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ মেলায় আসে আর দশমীর দিনে সকলের জন্য আহারের ব্যবস্থা করতেন তখনকার জমিদার বাবু ।
কৃষ্ণ কান্ত দেবের পরবর্তী বংশধরেরা ছিলেন পিতার মতোই উদারপন্থী মানুষ। তাদের মধ্যে রাধা চরণ দেব, হারাধন দেব, সুধাংশু দেব প্রত্যেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ।
আজকের যে ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনিক অফিস গুলো দাঁড়িয়ে আছে খলিসাগাড়ি স্টেটের দান করা সেই ভূমির উপর।