
প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্তের পর শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ, তদন্তে প্রশাসন
এমএফএইচ রাজু | ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-কর্মচারীদের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসা. হামিদা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান।
সমাবেশে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস. এম. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা ও নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং প্রশাসনিক তদন্তের বিষয়টি অভিভাবকদের অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে প্রধান শিক্ষক এস. এম. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ মোট ২৪টি অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
৬ অক্টোবরের অফিস আদেশ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন আছিয়া খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জুলফিকার আলী শেখ এবং ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি আব্দুল আলিম আকন।
তদন্ত কমিটিকে এক মাসের মধ্যে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রধান শিক্ষক অর্ধেক খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরুরি অভিভাবক সমাবেশে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিলন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (মলাদ) জমাদ্দার, সমাজসেবক জুলফিকার আলী হায়দার, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শামীম হাওলাদারসহ অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কার্যকর হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।