
নন্দিনী লুইজা,
জুঁই ফুল আমার ভীষণ প্রিয়,
তার গন্ধে মিশে থাকে
কী এক মায়াময় ভালো লাগা-
যেন নিঃশব্দে কেউ কাছে এসে
হৃদয় ছুঁয়ে দিয়ে যায়।
তাই একদিন নার্সারি থেকে
একটি জুঁইগাছ নিয়ে এলাম ঘরে,
ভেবেছিলাম, তার সাদা ফুলে
সুগন্ধ ছড়াবে চারপাশ,
আমার ভালো লাগাগুলোও
ডালপালায় ছড়িয়ে পড়বে ধীরে ধীরে।
কিন্তু হায়,
কয়েক দিনের মধ্যেই গাছটি
মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়ল,
পাতারা হারাল সবুজ,
ডালগুলো নুয়ে এসে বলল-
আর বুঝি ফেরা হলো না!
তবু তাকে ফেলে দিতে পারিনি,
মায়া বড় অদ্ভুত জিনিস, জানো?
যাকে ভালো লাগে,
তার শেষ হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেও
হাত বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে।
তাই যত্ন করে পানি দিলাম,
প্রতিদিন একটু করে খোঁজ নিলাম,
নির্বাক গাছটির পাশে
জমিয়ে রাখলাম বেঁচে থাকার আশা।
তারপর একদিন-
সবুজ ফিরে এল ডালে,
নতুন পাতারা মেলে ধরল ভালোবাসা-
আর এক সকালে দেখি,
আমার মৃতপ্রায় জুঁইগাছে
ফুটেছে একগুচ্ছ সাদা ফুল!
সেদিন আমার হৃদয়ে
কী যে আনন্দের ঢেউ উঠেছিল,
তা ভাষায় বোঝানো কঠিন।
মনে হয়েছিল,
আমি শুধু একটি গাছকে বাঁচাইনি,
বাঁচিয়ে তুলেছি আমার বুকের ভেতর
লুকিয়ে থাকা এক টুকরো স্বপ্ন।
প্রিয়,
তোমাকে আজ এই জুঁই ফুলের গল্প বলি-
সব সুন্দর জিনিসের সৌন্দর্য
শুধু তার রূপে থাকে না,
কখনো কখনো তার সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে
বেঁচে ফিরে আসার গল্পে।
যেমন একটি গাছ
একটু যত্নে মৃত্যুর দুয়ার থেকে
ফিরে পেতে পারে ফুল ফোটানোর অধিকার।
তেমনি ভালোবাসাও
একটু মমতা, একটু সময়,
আর একটুখানি বিশ্বাস পেলে-
আবার নতুন করে সুবাস ছড়াতে পারে।
জানো,
জুঁইয়ের এই সাদা পাপড়িগুলো
আমার কাছে এখন আর শুধু ফুল নয়,
এরা আমার অপেক্ষার ভাষা,
আমার মায়ার প্রতিদান,
আমার ভালোবাসার নীরব কবিতা।
যেদিন তোমার হাতে তুলে দেব
একটি সদ্যফোটা জুঁই,
তার গন্ধে হয়তো তুমি বুঝবে-
কতটা যত্নে তাকে বাঁচিয়েছি,
কতটা আনন্দে তার দিকে তাকিয়েছি,
আর কতখানি ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছি
তোমার জন্য এই হৃদয়ে।
মনে রেখো, প্রিয়-
জুঁই ফুল ফোটে বলেই সুন্দর নয়,
ভালোবাসার হাতে বেঁচে উঠেছে বলেই
সে আমার এত প্রিয়।
আর তুমি-
তোমাকে ভালোবাসি বলেই নয় শুধু,
তোমার সঙ্গে জীবনের প্রতিটি ঋতুতে-
নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করে বলে
তুমি আমার এত আপন।
* এম আব্দুর রাজ্জাক*