শহীদ জিয়ার পরীক্ষিত সৈনিক সাহিদ হাসান: রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের স্বর্ণযুগের নায়ক

[print_bangla]

সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে একটি সময়কে আজও স্বর্ণযুগ হিসেবে স্মরণ করা হয়। আর সেই সময়ের অন্যতম সফল ও ত্যাগী নেতৃত্বের নাম মোঃ সাহিদ হাসান। তাঁর নেতৃত্বে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদল শুধু একটি ছাত্র সংগঠন ছিল না, বরং সাধারণ ছাত্রদের অধিকার, দাবি ও প্রত্যাশার ভরসার ঠিকানা হয়ে উঠেছিল।

তাঁর সময়েই রাজশাহীর ছাত্র রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। নগরীর সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, বিআইটি-বর্তমান রুয়েট, প্রভৃতি) ছাত্রদলের শক্ত অবস্থান তৈরি হয় এবং সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীরা একক জয়লাভ/সংখ‍্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। তৎকালীন সময়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের সুসংগঠিত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠার পেছনে সাহিদ হাসানের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রবীণ নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদের অধিকার আদায় ও ঐতিহাসিক ভূমিকা

রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদে প্রকৃত নির্বাচন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ ছাত্রসমাজের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে সাহিদ হাসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

১৯৯৩ সালে তাঁর বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনুদানে রাজশাহী কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানে বাস উপহার দেন এবং প্রথমবারের মতো বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ‍তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. শামসুর রহমান ও ছাত্র সংসদ ভিপি সাহিদ হাসানকে বাসের চাবি প্রদান করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ সে সময় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

১৯৮৯-১৯৯৪ সালে রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাহিদ হাসান। ছাত্রদের অধিকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে দ্রুতই শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

রাজশাহীর ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর নেতৃত্ব শুধু ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর সময়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড রাজশাহীর বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাজেও বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফল হিসেবে রাজশাহী বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পায় বলে দলটির প্রবীণ নেতাকর্মীদের অভিমত।

আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে

স্বৈরাচার সরকার-ফ‍্যাসিষ্ট সরকার আমলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর নামে মামলা-ডিটেনশন, জন-নিরাপত্তা আইনে মামলা-ব‍্যাংক অ‍্যকাউন্ট ফ্রিজসহ নানাভাবে হয়রানী-কারাবরণ করতে হয়

তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে পারেনি। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষায়, “সাহিদ ভাই মানেই রাজপথ, রাজপথ মানেই সাহিদ ভাই।”

দলীয় রাজনীতিতে পদ-পদবির জন্য ব্যক্তিগত লবিংয়ের পরিবর্তে সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ, কর্মীবান্ধব আচরণ এবং রাজপথের ভূমিকার কারণেই তিনি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন।

২০১৮ সালে ধানের শীষের মনোনয়ন

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান সাহিদ হাসান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ওই মনোনয়নকে দেখেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

নগরবাসীর সেবক হতে চান

আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাহিদ হাসান। তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যয়ের মূল বক্তব্য,

“নগরপিতা নয়, নগরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।”

তিনি এমন একটি রাজশাহী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে নগর উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, নাগরিক সেবা হবে সহজলভ্য এবং নগরবাসীর মতামত ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেবক হবে নগরবাসীর কাছে দায়বদ্ধ।

সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড

ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সাহিদ হাসান বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণ তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

প্রবীণ নেতাকর্মীদের মতে, সাহিদ হাসানের নেতৃত্বে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের যে প্রাণবন্ত সাংগঠনিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তার সেই ধারাবাহিকতা আর একইভাবে দেখা যায়নি।

আজ যখন রাজশাহী মহানগর নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায়, তখন ত্যাগ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকার কারণে সাহিদ হাসানকে নতুন করে মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রত্যাশা, রাজশাহীর রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে।

সাহিদ হাসানের সাংগঠনিক পরিচয়

* সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিএনপি, রাজশাহী মহানগর
* সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি, রাজশাহী মহানগর
* সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ
* সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাজশাহী মহানগর
* সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাজশাহী কলেজ
* সাবেক নির্বাচিত ভিপি, রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদ

রাজশাহীর ছাত্র রাজনীতির সেই পরীক্ষিত সময় থেকে আজকের নগর রাজনীতি পর্যন্ত সাহিদ হাসানের রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ। তাঁর অনুসারীদের কাছে তিনি শুধু একজন সাবেক ছাত্রনেতা নন, বরং শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের একজন পরীক্ষিত সৈনিক।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শহীদ জিয়ার পরীক্ষিত সৈনিক সাহিদ হাসান: রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের স্বর্ণযুগের নায়ক

০৯ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top