
দুবাই প্রবাসীর ৯৬ লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগে চকরিয়া থানায় নোমানের বিরুদ্ধে মামলা
মোঃ মোরশেদ,(জেলা প্রতিনিধি) কক্সবাজার।
কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় দুবাই প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৯৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি ও হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে এনে আত্মসাতের অভিযোগে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়া থানাধীন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নতুন পাড়া এলাকায় সংঘটিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবং চুরির টাকা স্থানীয়ভাবে উদ্ধারের চেষ্টার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেন ভুক্তভোগী প্রবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া সিকদার পাড়ার প্রবাসী সাইফুল ইসলাম (৩১) দুবাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে বোরকার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে আসামি মোঃ নোমান (৩৫)-কে তিনি নিজের দোকানে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং একই কক্ষে থাকার সুযোগ দেন।
বিগত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে প্রবাসী সাইফুল ইসলাম শারীরিক ব্যায়ামের জন্য জিমে যান। এ সময় ভুলবশত ক্যাশ ড্রয়ারের চাবি বালিশের নিচে থেকে যায়। এই সুযোগে নোমান ড্রয়ারে গচ্ছিত ব্যবসায়িক ২,৮০,০০০ (দুই লক্ষ আশি হাজার) দুবাই দিরহাম (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯৬,৩২,০০০ টাকা) নিয়ে আত্মগোপন করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চুরির পর নোমান গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে মোট ৬৯ লাখ টাকা বাংলাদেশে পাঠায়। পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর তিনি নিজে দেশে ফেরেন।
অনুসন্ধানে বাদী জানতে পারেন, অভিযুক্ত নোমান তার স্ত্রী মিলি আকতার, বোন উম্মে কুলছুম, শ্বশুর মীর আহমেদ, শাশুড়ি জাহানারা আরজু এবং শ্যালক রমিজুর রহমান তুহিনের যোগসাজশে ও সহায়তায় চুরিকৃত অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট জমা রেখে আত্মসাৎ করেছেন।
ঘটনার পর বাদী গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসামীদের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কাউকে পাননি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামীরা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে রয়েছে। পরবর্তীতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় স্থানীয় সাক্ষীদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে আসামীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা চুরি করা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একই সাথে বাদীকে খুন-খারাবি করা এবং পুনরায় বিদেশে যেতে না দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় এবং আসামীদের অব্যাহত হুমকিতে তিনি চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এজাহারের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।