কারামুক্তির পর গর্জনিয়ায় উল্লাস: প্রশ্ন উঠছে ‘ডাকাত’ আখ্যার পেছনে থাকা স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে

[print_bangla]

কারামুক্তির পর গর্জনিয়ায় উল্লাস: প্রশ্ন উঠছে ‘ডাকাত’ আখ্যার পেছনে থাকা স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে

মোঃ মোরশেদ,(জেলা প্রতিনিধি) কক্সবাজার।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহিনুর রহমান (শাহিন) দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গত (১৯ অক্টোবর) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
তার কারামুক্তির খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শাহিনের সমর্থক ও অনুসারীরা একের পর এক শুভেচ্ছা পোস্ট দিচ্ছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আনন্দঘন মন্তব্য ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস। তবে এই আনন্দ কেবল ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ নেই, এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে আনন্দ উদযাপনের আয়োজন করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

শাহিনুর রহমানের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং কারামুক্তিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস নতুন করে জন্ম দিয়েছে নানা আলোচনার।
সচেতন মহলের প্রশ্ন একজন ব্যক্তি যদি সত্যিই সমাজবিরোধী বা ডাকাত হতেন, তবে তার মুক্তিতে একটি অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ এভাবে উল্লাসে ফেটে পড়তেন কীভাবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪/৫ বছর ধরে শাহিনুর রহমানকে ‘ডাকাত’ ট্যাগ বা আখ্যা দিয়ে গর্জনিয়ার একটি প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ফায়দা লুটছিল। স্থানীয়দের দাবি, শাহিনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে উক্ত সুবিধাভোগী চক্রটি এলাকায় একাধিক অবৈধ ও অপকর্ম পরিচালনা করে আসছিল। শাহিনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করে তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেছে বলে এখন গুঞ্জন উঠেছে।

সরজমিনে গর্জনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয়দের মতে, শাহিনুর রহমান শাহিন কোনো অপরাধী নন, বরং তিনি একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও সমাজসেবক হিসেবেই এলাকায় পরিচিত।

এলাকার দরিদ্র ও মেহনতী মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সবসময় বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। কোনো অভাবী মানুষ সাহায্য চেয়ে তার কাছ থেকে খালি হাতে ফিরেছেন এমন নজির কম।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গর্জনিয়ার যেসব পরিবার মেয়েদের বিয়ে দিতে পারছিল না, শাহিন তাদের নিজ দায়িত্বে সর্বোচ্চ আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে বিয়ের বন্দোবস্ত করেছেন।

প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে গর্জনিয়ার একাধিক পাড়া প্রতি বছর প্লাবিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় জনপ্রতিনিধিদের পাশে পাওয়া না গেলেও শাহিন নিজের অর্থায়নে বানভাসি মানুষের কাছে শুকনো খাবার ও ত্রাণ পৌঁছে দিতেন। তবে এসব সামাজিক কর্মকাণ্ড কখনো গণমাধ্যমে প্রচারের আলোয় আসেনি।

গর্জনিয়ার একাধিক প্রবীণ ও সাধারণ নাগরিক বলেন, শাহিন আমাদের সুখে-দুঃখে পেটের খবর রাখতেন। তিনি ডাকাত হলে আজ পুরো এলাকার মানুষ নিজেদের খরচে মিষ্টি বিতরণ আর আনন্দ পার্টির আয়োজন করত না।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শাহিনুর রহমানের ওপর ‘ডাকাত’ তকমা সেঁটে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তার মুক্তিতে সর্বস্তরের মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে যে তিনি এলাকায় কতটা জনপ্রিয় এবং তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা কতটা গভীর।

বর্তমানে শাহিনের কারামুক্তিকে কেন্দ্র করে পুরো গর্জনিয়া ইউনিয়নে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যা স্থানীয় রাজনীতি ও স্বার্থান্বেষী মহলের সাজানো গল্পকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কারামুক্তির পর গর্জনিয়ায় উল্লাস: প্রশ্ন উঠছে ‘ডাকাত’ আখ্যার পেছনে থাকা স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে

২২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top