
ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনের ৬ শতক জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে হাসান আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে হয়রানী করছেন হাসান আলী। রফিকুল ইসলাম উপজেলার পাকুড়ীহাটা গ্রামের বাসিন্দা ও কাদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ভুক্তভোগী স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম পাকুড়ীহাটা বাজার এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। এ সময় প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সহ ৬ শতক জমি দ্রুত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার পাকুড়ীহাটা গ্রামের মৃত কাবিল প্রামাণিকের ধুনট মৌজার ৫০১ নম্বর দাগে মোট ১৩৩ শতক জমি ছিল। কাবিল প্রামাণিকের সন্তান ও নাতিদের নিকট হতে ৮০ দশকে ৬ দফায় মোট ৭৭ শতক জমি ক্রয় করেন একই গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে হাসান আলী। কিন্তু বর্তমানে হাসান আলী ৭৭ শতকের স্থলে ৮৩ শতক জায়গা জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন।
সম্প্রতি কাবিল প্রামাণিকের ওয়ারিশগণ জমিজমা বুঝে নিতে গেলে হাসান আলীর অতিরিক্ত ৬ শতক জমি দখলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং তারা অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য তাকে অনুরোধ জানান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে একাধিক শালিশী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর শালিশী বৈঠকে গ্রামের দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমিন দিয়ে হাসান আলীর ৭৭ শতক জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ওই বৈঠকে হাসান আলী সীমানা মেনে নিয়ে অবৈধ দখলে থাকা অতিরিক্ত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে হাসান আলী শালিশী বৈঠকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি আব্দুল জলিল গং তাদের নিজেদের জায়গায় গাছ রোপণ করলে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ এনে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করান।
আমরা এই মিথ্যা খবরের তীব্র নিন্দা জানাই এবং হাসান আলীর অবৈধ দখল হতে আমাদের ৬ শতক জমি উদ্ধারে গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন, আদালত ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে ওই জমির অংশিদার সহ গ্রামবাসি উপস্থিত ছিলেন।