
জহির রায়হান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি-
কাউনিয়ায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের খামারীরা কুরবানির পশু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে। খামারগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কর্মব্যস্ততা। অধিক লাভের আশায় পরিবারের সদস্যদের নিয়েই গরু মহিষ ভেড়া ছাগল মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলার শতশত খামারি।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার কাউনিয়ায় প্রায় ৩ হাজার ২শ’ ৮০ খামারে কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮শ’ ৬০টি গবাদিপশু। এর মধ্যে ৬ হাজার ৬শ’ ৯৭টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩৬ টি বলদ,২ হাজার ৯২ টি গাভী, ৯৮ টি মহিষ, ১৪ হাজার ৮৪ টি ছাগল, ৮শ’ ৪৬ টি ভেড়া, অন্যান্য ৭ টি পশু রয়েছে । খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুষি, খৈল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। শুধু উপজেলার চাহিদা পূরণ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও কাউনিয়া থেকে উল্লেখ যোগ্য পরিমান পশু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাটে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলায় গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠতে শুরু করেছে বহু আগে। সময়ের সঙ্গে এ খাত এখন উপজেলার অন্যতম বড় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। দেশীয় জাতের পাশাপাশি বিভিন্ন সংকর জাতের গবাদিপশুও লালন-পালন করছেন খামারিরা। উপজেলার বড় খামারী তাজরুল ইসলাম জানান সম্ভাবনার এই খাতে বড় দুশ্চিন্তার নাম উৎপাদন ব্যয়। চলতি বছরে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচও অনেক বেড়েছে।
খাদ্যের দাম বাড়লেও ভারত থেকে গরু না আসলে ঈদে ভালো বাজারমূল্যের আশা করছেন তিনি। ভারতীয় গরু অবাধে আসলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। গরুর খাদ্য ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বলেন, গরু ও ছাগলের খাবারের দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনে ঈদ, এ জন্য চাহিদাও বেশি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এআরএম আল মামুন বলেন, চলতি বছরে কাউনিয়ায় ২৫ হাজার ৮শ’ ৬০ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলায় চাহিদা ১৭ হাজার ৪শ’ ১১টি, উদ্বৃত্ত রয়েছে ৮ হাজার ৪শ’ ৪৯ টি পশু। কোরবানী উপলক্ষে কোন পশুর সংকট হবে না। যে পরিমান গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, তা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। জে/এ
