
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে স্থানীয় সরকারের নতুন রূপরেখা। আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই রূপরেখার খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কেন এই সংস্কার?
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নানা জটিলতা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনোত্তর এই নতুন রূপরেখায় মূলত বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে স্বায়ত্তশাসন ও আর্থিক সক্ষমতা প্রদানের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
রূপরেখার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, নতুন রূপরেখায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে:
-
জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নাগরিক পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
-
আর্থিক স্বনির্ভরতা: স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না রেখে, নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টির সুযোগ এবং কর আহরণের ক্ষেত্রে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
-
ডিজিটাল সেবার প্রসার: ইউনিয়ন থেকে জেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে অনলাইন সেবাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে নাগরিকরা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ যাবতীয় সরকারি সেবা নিতে পারেন।
-
সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা: গ্রাম ও শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমাদের একটি বড় অঙ্গীকার ছিল স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন। আমরা চাই তৃণমূলের মানুষ তাদের সমস্যার কথা যেন সহজেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানের এই নতুন রূপরেখা কার্যকর হলে প্রশাসনিক জটিলতা অনেক কমে আসবে এবং উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
এই রূপরেখা নিয়ে জেলা পর্যায়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি এই রূপরেখা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল প্রশাসনিক দপ্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে স্থানীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।
আগামী মাসের মধ্যেই এই রূপরেখার চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরকার আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন এই রূপরেখা পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি জেলায় বাস্তবায়ন শুরু হবে।