
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় এবার ভিন্নধর্মী এবং প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। রোগের বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ এবং ‘ড্রোন সার্ভে’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের প্রস্তুতিকে বেশ আগাম ও পরিকল্পিত বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
ড্রোনের মাধ্যমে মশা নিধন কার্যক্রম
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এবারই প্রথমবারের মতো প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মূল দিকগুলো হলো:
-
ড্রোন সার্ভে: উঁচু ভবন, ঝোপঝাড় এবং দুর্গম এলাকার ছাদ বা যেসব স্থানে মানুষের পৌঁছানো কঠিন, সেসব জায়গায় ড্রোন পাঠিয়ে লার্ভার অস্তিত্ব শনাক্ত করা হচ্ছে।
-
স্বয়ংক্রিয় স্প্রে: লার্ভা শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে ড্রোন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে মশার ওষুধ ও লার্ভিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এতে জনবল কম লাগছে এবং কাজের গতি বাড়ছে।
-
নিভৃত স্থানে নজরদারি: শহরের পরিত্যক্ত স্থাপনা বা নির্মাণাধীন ভবনের যে জায়গাগুলো সাধারণত কর্মীদের নজরের বাইরে থাকে, সেগুলো এখন ড্রোনের ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে।
সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম
ড্রোন সার্ভের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও জোরালো কার্যক্রম চলছে:
-
ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং: প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা প্রতিদিন এলাকাভিত্তিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
-
জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন: জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে যুক্ত করে এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।
-
জরুরি হেল্পলাইন: যেকোনো স্থানে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তা জানানোর জন্য ডেঙ্গু কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নম্বরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় একমাত্র চাবিকাঠি হলো মশার প্রজনন উৎস ধ্বংস করা। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নিখুঁতভাবে লার্ভা খুঁজে বের করতে পারছি। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার অভ্যাসটিও অপরিহার্য।”
নগরবাসীর সচেতনতা
সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন মাস এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গু যেন মহামারীতে রূপ না নিতে পারে, সেজন্য সকল প্রকার বর্জ্য অপসারণ ও পানি জমতে পারে এমন পাত্র পরিষ্কার রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্যক্রম ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশের দুই প্রধান মহানগরীতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।