
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী চলমান টেলি-মেডিসিন কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) থেকে দেশের নতুন আরও ৫টি জেলায় এই বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলের রোগীরা এখন ঘরে বসেই পাচ্ছেন ঢাকা ও বড় শহরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা।
টেলি-মেডিসিন সেবার নতুন সংযোজন
বর্তমানে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে টেলি-মেডিসিন সেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও সহজতর হয়েছে। নতুন এই সম্প্রসারণের আওতায় যেসব সুবিধা যুক্ত হয়েছে:
-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ: এখন থেকে এই ৫টি জেলার রোগীরা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, গাইনি ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে সরাসরি ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন।
-
ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন: ভিডিও কনসালটেশনের পরপরই রোগীর স্মার্টফোনে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন পাঠানো হচ্ছে, যা দেশের যেকোনো ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয়ে গ্রহণযোগ্য।
-
স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংযোগ: উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে এই সেবার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর প্রাথমিক তথ্য ও রিপোর্ট অনলাইনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে পারছেন।
-
২৪/৭ হেল্পলাইন: যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে নতুন হটলাইন নম্বর।
সেবাগ্রহীতাদের জন্য সুবিধা
টেলি-মেডিসিন সেবার পরিধি বৃদ্ধির ফলে রোগীদের বড় শহরে যাতায়াত ও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি অনেকাংশে কমে গেছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এটি এক বড় আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিমত
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। টেলি-মেডিসিন সেবার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব দূর করে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাই।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের প্রতিটি জেলায় এই সেবা বিস্তৃত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে টেলি-মেডিসিন সেবাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা চ্যাটবটের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে রোগীরা প্রাথমিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক পরামর্শ পেতে পারেন।
আজ থেকে শুরু হওয়া এই সম্প্রসারিত কার্যক্রমের ফলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সুলভ মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।