রবিবার ১২ই জুলাই, ২০২৬ ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩

তিস্তা নদীর ভাঙনে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

[print_bangla]

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর-

তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি-মিনা বাজার ও মিনা বাজার-কালিগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধ দুটির বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ধস ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পরিবারের বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী বর্ষা মৌসুমেই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে পুরো এলাকা। শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে মিনা বাজার পর্যন্ত নির্মিত রক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে মাটি ধসে গেছে। কোথাও কোথাও নদীর তীব্র স্রোত বাঁধের একেবারে গা ঘেঁষে আঘাত হানছে। একই চিত্র দেখা গেছে মিনা বাজার থেকে কালিগঞ্জগামী খেয়াঘাট পর্যন্ত নির্মিত রক্ষা বাঁধেও। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে মিনা বাজার পর্যন্ত একটি রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনা বাজার থেকে কালিগঞ্জগামী খেয়াঘাট পর্যন্ত আরও একটি রক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় দুটি বাঁধেই ক্ষয় ও ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দাবির মুখে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রায়হান সিরাজীর সুপারিশে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ৪০০টি জিও ব্যাগ সরবরাহ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তুলনায় এই ব্যবস্থা অপ্রতুল।
স্থানীয় বাসিন্দা মোনাইম হোসেন বলেন, “প্রতিদিনই বাঁধের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে আগামী বন্যায় পুরো এলাকা ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।
আব্দুর রশীদ বলেন, জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে কিছু জায়গা রক্ষা করা গেলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নদীর স্রোত বাড়লে এসব ব্যাগ টিকবে না। দ্রুত ব্লক পিচিং করা প্রয়োজন।”
ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি বাঁধের বিষয় নয়, হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েছি। দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে ব্লক পিচিংয়ের কাজ শুরু করা জরুরি। স্থানীয়দের দাবি, বাঁধ দুটিকে স্থায়ী ভাবে রক্ষার জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি ব্লক পিচিং প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা প্রকল্পটির সুপারিশ করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর বাগডহরা, মিনা বাজার, পূর্বপাড়া, মেম্বারপাড়া, শখেরবাজার ও মটুকপুরসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পরিবার বসবাস করে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তিস্তার তীরবর্তী এসব এলাকায় হাজার হাজার একর জমিতে ধান, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে বাঁধ দুটিতে ব্লক পিচিংয়ের কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

তিস্তা নদীর ভাঙনে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

০৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top