
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ধর্মীয় সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) থেকে শুরু হয়েছে দেশের ইমামদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা—‘প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ইমাম প্রশিক্ষণ’। ধর্ম ও সমাজ সচেতনতায় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে ইসলামের মূল বাণী আরও স্পষ্টভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আইসিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে ইমামদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা হচ্ছে। এর প্রধান দিকগুলো হলো:
-
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার: সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কীভাবে শুদ্ধভাবে ইসলামের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বার্তা প্রচার করা যায়, তা শেখানো হচ্ছে।
-
অনলাইন ফতোয়া ও সেবা: অনলাইনে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক রেফারেন্স ও তথ্যসূত্র ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
-
সাইবার সচেতনতা ও নিরাপত্তা: ইন্টারনেটে ছড়ানো গুজব, উসকানিমূলক তথ্য এবং সাইবার অপরাধের হাত থেকে তরুণ সমাজকে সতর্ক করতে ইমামদের জন্য বিশেষ মডিউল যুক্ত করা হয়েছে।
-
ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ: মসজিদের দানবাক্স, অনুদান ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কৌশল শেখানো হচ্ছে।
কেন এই উদ্যোগ?
ইমামরা সমাজের একজন অত্যন্ত সম্মানিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তারা যদি সমাজে সুস্থ ধারার চর্চা করেন, তবে খুব সহজেই মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদ ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা সম্ভব। এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো ইমামদের ‘ডিজিটাল ধর্মপ্রচারক’ বা ‘স্মার্ট ইমাম’ হিসেবে গড়ে তোলা।
ইমামদের অভিমত
প্রশিক্ষণরত একজন ইমাম বলেন, “আগে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের অনেক জড়তা ছিল। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, প্রযুক্তির সাহায্য নিলে আমাদের ওয়াজ বা খুতবা অনেক বেশি তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় হবে, যা তরুণ প্রজন্মকে দ্রুত আকৃষ্ট করতে পারবে।”
সরকারের পরিকল্পনা
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, “আমরা দেশের প্রতিটি মডেল মসজিদ ও জেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে সকল ইমামকে এই প্রশিক্ষণ দেব। ইমামরা যখন ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে কথা বলবেন, তখন তাদের বক্তব্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য হবে।”
ভবিষ্যতের প্রভাব
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ইমামরা মসজিদে জুমার খুতবার পাশাপাশি অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমেও ধর্মীয় সম্প্রীতি, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের কথা প্রচার করবেন। প্রযুক্তিনির্ভর ইমামদের এই দলটি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সেবায় এক ইতিবাচক ও শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।