সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬ ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম: পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়নে নতুন উদ্যোগ

[print_bangla]

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’। এই কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) থেকে সারা দেশে পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়নে এক বিশেষ কর্মশালা শুরু হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এখন ডিজিটাল সুবিধাসহ উন্নত পাঠ্যক্রমের আওতায় আসছে।

কার্যক্রমে যেসব পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন আসছে

প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে এই কার্যক্রমে নতুন যেসব সংযোজন করা হয়েছে:

  • মাল্টিমিডিয়া পাঠদান: প্রতিটি মডেল মসজিদ ও প্রধান কেন্দ্রগুলোতে এখন ডিজিটাল প্রজেক্টর ও ট্যাবের মাধ্যমে শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। এতে বর্ণমালা শেখা থেকে শুরু করে নৈতিক শিক্ষার বিষয়গুলো ভিডিওর মাধ্যমে সহজে বোধগম্য করা হচ্ছে।

  • ডিজিটাল লাইব্রেরি ও অ্যাপ: শিশুদের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা খেলার ছলে তাদের গণিত ও ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

  • ঝরে পড়া রোধে বিশেষ নজর: ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে ‘বেসিক লিটারেসি’ কোর্সকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে, যেখানে বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের জন্য আলাদা শিফট নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • শিক্ষক প্রশিক্ষণ: মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকদের পাঠদানের মানোন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রকল্পের গুরুত্ব

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার শিশু বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে। এটি কেবল শিক্ষার হারই বাড়াচ্ছে না, বরং শিশুদের মাঝে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বক্তব্য

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার আলো যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছায়। প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা এই কার্যক্রমকে এখন এমন এক পর্যায়ে নিয়ে এসেছি যেখানে একজন গ্রামীণ শিশুও শহরের আধুনিক স্কুলের মতো ডিজিটাল কন্টেন্টের সুবিধা পাচ্ছে। এটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টার অংশ।”

স্থানীয় পর্যায়ে সাড়া

এই আধুনিকীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। অনেক অভিভাবক জানান, মসজিদের ভেতরেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পেয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। বিশেষ করে নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের এই সমন্বয় তাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য

সরকারের লক্ষ্য আগামী বছরের মধ্যে এই কার্যক্রমের আওতা আরও সম্প্রসারণ করা এবং প্রতিটি জেলা পর্যায়ে একটি করে স্মার্ট লার্নিং সেন্টার স্থাপন করা। এর মাধ্যমে দেশের নিরক্ষরমুক্ত এবং শিক্ষিত সমাজ গঠনের যাত্রা আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম: পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়নে নতুন উদ্যোগ

১৫ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top