
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা এখন একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ২৪/৭ অনলাইন কাউন্সিলিং প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন যেকোনো বয়সের মানুষ।
অনলাইন কাউন্সিলিং সেবার বিশেষত্ব
মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য ও গোপনীয় করার লক্ষ্যে এই প্ল্যাটফর্মে বিশেষ কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে:
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা: অনলাইন কাউন্সিলিংয়ের পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে গোপনীয় রাখা হচ্ছে। রোগীর পরিচয় বা কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে অত্যাধুনিক এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
২৪/৭ সেবা: যেকোনো সময়, এমনকি গভীর রাতেও মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিরা এই প্ল্যাটফর্মে লগ-ইন করে বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলর বা সাইকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ভিডিও ও চ্যাট সুবিধা: শুধু অডিও বা ভিডিও কল নয়, যারা সরাসরি কথা বলতে ইতস্ততবোধ করেন, তাদের জন্য রিয়েল-টাইম টেক্সট চ্যাটিংয়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
সহজ বুকিং সিস্টেম: নির্দিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাচ্ছে, ফলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
কেন এই সেবা প্রয়োজনীয়?
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার চাপ, ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ এবং পারিবারিক সমস্যার কারণে বিষণ্নতা বাড়ছে। অনেক সময় লজ্জা বা সামাজিক জড়তার কারণে অনেকে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে কাউন্সেলিং নিতে চান না। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সেই মানসিক বাধা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানান, “মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে আমরা সেইসব মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই, যারা এখন পর্যন্ত সাহায্য চাইতে দ্বিধা করছিলেন। এটি কেবল একটি সেবা নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার এক নতুন আন্দোলন।”
সচেতনতার আহ্বান
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষণ্নতা বা উদ্বেগের লক্ষণগুলো শুরুতে দেখা দিলে দেরি না করে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো কাউন্সেলিং নিলে অধিকাংশ মানসিক সমস্যাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যেকোনো ছোট বা বড় মানসিক অস্থিরতার ক্ষেত্রে দ্রুত পরামর্শ নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।