
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
পবিত্র ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত, যা মূলত সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই যাকাতের অর্থকে কেবল অনুদান হিসেবে বিতরণ না করে, এটিকে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় যাকাত বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় যাকাত তহবিলের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
যাকাত তহবিলের আধুনিক রূপান্তর ও ব্যবস্থাপনা
যাকাতের অর্থ যেন দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনে, সেজন্য সরকার বর্তমানে কয়েকটি বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে:
-
উৎপাদনমুখী প্রকল্প: কেবল নগদ অর্থ সহায়তা না দিয়ে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সেলাই মেশিন, ভ্যান, গবাদিপশু বা কৃষি সরঞ্জাম প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। ফলে একজন গ্রহীতা খুব দ্রুতই নিজেই একজন উপার্জনকারী হয়ে উঠছেন।
-
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ: যাকাতের অর্থে গরিব শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা কর্মবাজারে প্রবেশের যোগ্য হয়ে ওঠে।
-
ডিজিটাল ডাটাবেজ: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যাকাত গ্রহণকারীদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এতে একই ব্যক্তি বারবার সহায়তা নেওয়ার বদলে নতুন নতুন দুস্থ মানুষ সেবার আওতায় আসছে।
-
সমন্বিত বিতরণ ব্যবস্থা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্থানীয়ভাবে মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে, যা প্রকৃত অসহায়দের কাছে যাকাতের অর্থ পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখছে।
বক্তাদের অভিমত
যাকাত বোর্ডের সদস্যরা সভায় জানান, “যাকাত কেবল দারিদ্র্য বিমোচন নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির একটি অংশ। আমাদের লক্ষ্য হলো, একজন যাকাত গ্রহীতা যেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নিজে যাকাত দাতা হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেন।” এছাড়া ধর্মীয় বক্তারা সমাজের সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি যাকাত তহবিলে অংশ নিয়ে বড় পরিসরে দরিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখেন।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
এই নতুন ধারার যাকাত বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। যারা আগে কেবল সাহায্য নিয়ে চলতেন, তারা এখন নিজস্ব ছোট ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। অনেক সুবিধাভোগী জানান, অনুদান হিসেবে টাকা পাওয়ার চেয়ে কাজ করার সরঞ্জাম পাওয়ায় তারা অনেক বেশি সম্মান ও আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন।
ভবিষৎ পরিকল্পনা
সরকার আগামীতে যাকাত তহবিলকে আরও বড় আকারে বিনিয়োগের উপযোগী করতে একটি ‘যাকাত ভিত্তিক বিনিয়োগ ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে ছোট ছোট ব্যবসার মূলধন যোগান দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত সচল করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
ইসলামি বিধান ও আধুনিক অর্থনীতির সঠিক সমন্বয়ে যাকাত তহবিলের এই পরিকল্পিত ব্যবহার বাংলাদেশের দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার পথে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।