
এমএফএইচ রাজু | ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামের বাসিন্দা গাছ ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস শরীফ (৫০) বাসযাত্রার সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দেওয়া খাবার খেয়ে অচেতন হওয়ার পর প্রায় ৪ লাখ টাকা হারানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ব্যবসায়িক কাজে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (সরূপকাঠি) উপজেলা এলাকায় যান ইদ্রিস শরীফ। সেখানে ব্যবসার পাওনা ও ধার করা অর্থসহ মোট ৪ লাখ ১ হাজার ২৫০ টাকা সংগ্রহ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
মো. ইদ্রিস শরীফ জানান, নেছারাবাদ (সরূপকাঠি) থেকে রাজাপুরগামী একটি লোকাল বাসে যাত্রাকালে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নাড়ু খেতে দেন। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। অচেতন অবস্থায় নির্ধারিত গন্তব্যে নামতে না পেরে বাসের শেষ স্টপেজ পিরোজপুর নতুন বাস টার্মিনালে পৌঁছে যান।
পরে বাস টার্মিনালে থাকা লোকজন তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে স্বজনদের খবর দেন। স্বজনরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্বজনদের দাবি, অচেতন অবস্থায় তার সঙ্গে থাকা ৪ লাখ ১ হাজার ২৫০ টাকা খোয়া যায়। ফলে পরিবারটি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে।
জানা গেছে, ইদ্রিস শরীফ দীর্ঘদিন ধরে গাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। সম্প্রতি পারিবারিক সম্পত্তি কেনার উদ্দেশ্যে তিনি ওই অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, অর্থ হারানোর পর চিকিৎসা ব্যয় ও সংসার পরিচালনা নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্তমানে ইদ্রিস শরীফ শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় ইদ্রিস শরীফ এখনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি।