
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারী জালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ জাল মজুত ও ব্যবসার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) পৌর শহরের রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল চায়না দুয়ারী, চড়ঘোরা জাল, ঝালবুসনা, চাই বুসনা এবং বাধাজাল। এসব জাল ও উপকরণ নদী-নালার প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ এবং দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, পাড়েরহাট এলাকার মোসলেম উদ্দিন খানের ছেলে মো. রেজওয়ান খান (২৫) এবং ভাণ্ডারিয়া এলাকার লতিফ হাওলাদারের ছেলে মো. জয়নাল হাওলাদার (৬০)।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত নিষিদ্ধ জাল ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত সরঞ্জামের ব্যবসা কিংবা ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে নদী-খাল-বিলে দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।