
পারভেজ হাসান, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫ নং কালাপুর ইউনিয়ন অন্তর্গত ডানকান ব্রাদার্স কোম্পানী লিমিটেড মাজডিহি চা বাগান সেকশনে কাঁঠাল ফল গাছ কাটা নিয়ে চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি দু’পক্ষের মাঝে সাংঘর্ষিক ও টানটান উত্তেজনা বিরাজমান। ১ম পক্ষ, নির্বাচিত সাবেক পঞ্চায়েত কমিটি সভাপতি সাধন কর্মকার ও নারী চা শ্রমিক নেত্রী সন্তকিয়া রায় অভিযোগ চা বাগান সেকশনে কাঁঠাল ফল গাছ বহিরাগত লোকের দ্বারা কিভাবে গাছ কাটা হয়,কে বা কারা গাছ কাটছে,কার অনুমতিতে গাছ কাটছে সেই প্রসঙ্গে যাচাই-বাছাই প্রশ্ম তুলেন চা বাগান কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপকের নিকট।
অভিযোগকারীগণ চা বাগানের সকল চা শ্রমিক নিয়ে বাগান ব্যবস্থাপক নিকট বৈধভাবে গাছ কাটা অনুমতি পত্র চাইলে তাহা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ও বিগত ৯ দিন যাবত বিচার সালিশে সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় চা শ্রমিকদের মাঝে আরও উত্তেজনা ও সাংঘার্ষিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একপর্যায়ে চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি সাবেক সভাপতি সাধন কর্মকার, নারী চা শ্রমিক নেত্রী সন্তকিয়া রায়, সবুজ বাক্তি, সমরসিং মুন্ডা, লিটন বাউরী, বিকাশ নায়েকসহ চা শ্রমিক নারীগণ ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তার দুই’ ছেলে এবং বর্তমান এডহক চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি’ বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ধরেন।
অদ্য রোজ শনিবার ১১’ জুলাই সকাল ৯ ঘটিকা হইতে দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকা পর্যন্ত চা বাগানের চা কারখানা মূল ফটক সম্মুখ প্রান্তে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা করেন চা শ্রমিক নারীরা। এক পর্যায়ে রিমঝিম বৃষ্টি পড়লেও ভিজে ভিজে নিজ অবস্থানে বসে থাকেন। মাজডিহি চা বাগান মহা-ব্যবস্থাপক,ব্যবস্থাপক, অফিস প্রধান করণিক,টিলাবাবু, চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি নেতৃবৃন্দ ও সকল নারী চা শ্রমিক উপস্থিতিতে সন্তকিয়া রায় নেতৃত্বে বক্তব্যে এই সিদ্ধান্তে উপণিত হয় যে, চা বাগানে উক্ত কাঁঠাল গাছ কেটে মন্দিরে প্রদান করা হবে এবং বর্তমান এডহক চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি সর্বজন স্বীকৃতিতে তাদের কমিটি বাতিল ঘোষণা করে নতুন ভাবে চা বাগানে ‘চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি’ নাম প্রস্তাব করেন ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের নিকট তাহা গণস্বাক্ষরসহ দাখিল করা হবে এই মর্মে ঘোষণা দিলে নারী চা শ্রমিকরা অত্র স্থান হইতে নিজ নিজ সেকশনে চা পাতা তোলার কাজে ফিরে যান।এদিকে উক্ত বিষয়ে ২য় পক্ষ, বর্তমান এডহক চা শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটি প্রদীপ পাশি ও সোহেল মিয়া নেতৃত্বে চা বাগান ব্যবস্থাপকের নিকট জানতে চাইলে ব্যবস্থাপক বক্তব্যে বলেন চা শ্রমিকরা এই স্থানে বসে তারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তাদের একটাই দাবী এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন (ব্যবস্থাপক) আগামী সোমবার ১২’জুলাই উভয়পক্ষ বসে বিষয়টি বুঝে শোনে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আমাদের চা বাগান ব্যবস্হাপক ও টিলাবাবু অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু মানতে নারাজ। পরবর্তীতে তুহিন ভাই(স্থানীয় বিএনপি নেতা) তাদেরকে বুঝানোর পর সবাই কাজে চলে গিয়েছে।
উভয়পক্ষের চরম উত্তেজনা বিরাজের খবর মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন স্থানীয় বিএনপি নেতার কাছ থেকে শোনার সাথে সাথেই মৌলভীবাজার-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) তাঁর মুঠোফোনে ২য় পক্ষ, বর্তমান এডহক পঞ্চায়েত কমিটি সাথে আলাপ করে বিষয়টি সমাধানে আশ্বস্থ করেন। জে/এ
