
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ও ভূমিধসে জানমাল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি কর্তৃক উদ্ধার ও জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
টানা বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মাইকিং করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

জেলা কমান্ড্যান্ট মো: সাদ্দাম হোসেন পিভিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটি পৌরসভার অন্তর্গত ভেদভেদি বাজার, পোস্ট অফিস কলোনি, রিজার্ব বাজার, তবলছড়ি এলাকার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী জনসাধারণকে একটানা ০৬ ঘন্টা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষনের সময় কালবিলম্ব না করে জীবন রক্ষার্থে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পক্ষে মাইকিং করা হয়। এসময় বাড়িতে অবস্থানরত মানুষকে পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধসের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি পৌরসভার অন্তর্গত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের পিছনে অবস্থিত পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী ০৫টি পরিবার টানা বর্ষনের ফলে অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে মর্মে আনসার ও ভিডিপি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ০৭ নং ওয়ার্ড দলনেত্রী রোকসানা আক্তার এবং ০৮ নং ওয়ার্ড দলনেতা মোঃ নজির হোসেন জেলার সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট মোঃ তানজির আজাদকে অবগত করেন৷ জেলা কমান্ড্যান্ট মো: সাদ্দাম হোসেন পিভিএম এর সার্বিক নির্দেশনা মোতাবেক সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট মোঃ তানজির আজাদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গমন করেন এবং স্থানটি বসবাসের জন্য অতীব ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বসবাসরত ০৫টি পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে নিকটস্থ রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করেন। এছাড়া বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী জনসাধারণকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
যেকোনো ধরনের জরুরি ও আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে যেকোনো মুহূর্তে যৌথ টহল ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য ‘আনসার ব্যাটালিয়ন’-এর বিশেষ দক্ষ টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ পরিচালনা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ টিমটি ব্যাকআপ ফোর্স হিসেবে কাজ করবে, যা স্থানীয় প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
রাঙামাটিসহ দেশের সব বন্যা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয় স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে তাদের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দুর্গত মানুষদের উদ্ধার, সতর্কীকরণ এবং সর্বাত্মক সহায়তা করা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আদেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে ব্যাটালিয়ন পরিচালক, জেলা কমান্ড্যান্ট এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাগণ নিজেরা সরাসরি দূর্যোগ কবলিত এলাকায় উপস্থিত থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও সমন্বয় করে যাচ্ছেন।
চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষা করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন একতাবদ্ধ। একদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট মানবিক নির্দেশনা, অন্যদিকে বাহিনীর মহাপরিচালকের আন্তরিক ও মানবিক আহ্বান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাহিনীর প্রতিটি স্তরের সদস্য নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন ক্ষণে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি প্রাণও যেন অকালে ঝরে না যায়, সেই লক্ষ্যেই দিনরাত অবিচলভাবে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।