সোমবার ১৫ই জুন, ২০২৬ ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩

ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি: রাজধানীসহ সারা দেশে ডিজিটাল অডিট শুরু

[print_bangla]

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬

জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করতে আজ থেকে দেশব্যাপী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান ও ডিজিটাল অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রধান পাইকারি ওষুধের বাজারগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিজিটাল অডিট ও মনিটরিংয়ের বৈশিষ্ট্য

পুরানো প্রথাগত পদ্ধতির বদলে এবার ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এর মূল দিকগুলো হলো:

  • রিয়েল-টাইম ডাটা ট্র্যাকিং: প্রতিটি ওষুধের ব্যাচ নম্বর ও উৎপাদনকাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাচাই করা হচ্ছে। যদি কোনো ওষুধের তথ্যে অসংগতি পাওয়া যায়, তবে সেই ব্যাচটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কালোতালিকাভুক্ত হচ্ছে।

  • সাপ্লাই চেইন অডিট: ওষুধ কারখানা থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিটি স্তরে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে, যাতে চোরাইপথে বা নকল ওষুধ বাজারে না ঢুকতে পারে।

  • দ্রুত ল্যাব টেস্ট: অডিটের সময় কোনো ওষুধের গুণমান নিয়ে সন্দেহ হলে সাথে সাথেই তা ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করেই দ্রুত রেজাল্ট পাওয়ার জন্য অত্যাধুনিক কিট ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: এই ডিজিটাল অডিট ব্যবস্থাটি সরাসরি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের সাথে সংযুক্ত। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সঠিকভাবে কাজ করছেন কি না, তা কর্মকর্তারা সরাসরি মনিটর করতে পারছেন।

ওষুধ প্রশাসনের বক্তব্য

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, “রোগীর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নেই। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। এই ডিজিটাল অডিট ব্যবস্থার ফলে ওষুধের মানহীনতা বা জালিয়াতির সুযোগ আর থাকবে না।” তিনি ব্যবসায়ীদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা লাইসেন্সবিহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনমনে স্বস্তি

এই কঠোর মনিটরিং কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসক সমাজ। অনেক রোগীর অভিভাবক বলছেন, ওষুধের মান নিয়ে প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। প্রশাসন যেভাবে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং শুরু করেছে, তাতে নকল ওষুধের ভয় অনেক কমে আসবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পর্যায়ক্রমে সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ের ফার্মেসিকেও এই ডিজিটাল মনিটরিং নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া সাধারণ গ্রাহকরা যাতে মোবাইলে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ওষুধের মান যাচাই করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চালু করা হবে।

নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধের নিশ্চয়তা বিধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর নজরদারি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি: রাজধানীসহ সারা দেশে ডিজিটাল অডিট শুরু

১৫ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top