
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
পবিত্র হজ ২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ অফিসের আয়োজনে এয়ারলাইনস প্রতিনিধিদের সাথে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হজ গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি কমাতে প্রি-ফ্লাইট কার্যক্রমসহ সার্বিক নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
হজ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ
হজ কার্যক্রমকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে:
-
নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট: হজ ফ্লাইটসমূহ যাতে কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই সময়মতো সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
-
ই-হজ অ্যাপের নতুন ফিচার: হজ গমনেচ্ছুদের সহায়তায় সরকারি ‘ই-হজ’ অ্যাপে রিয়েল-টাইম ফ্লাইট ট্র্যাকিং, মক্কা-মদিনার আবহাওয়া আপডেট এবং জরুরি যোগাযোগের ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা আজ থেকে সক্রিয় হয়েছে।
-
হেল্প ডেস্ক: হজ পালনে কোনো সমস্যায় পড়লে সহায়তার জন্য বিমানবন্দর ও সৌদি আরবের বিভিন্ন পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বিশেষ হেল্প ডেস্ক।
-
সহজ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া: ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এবারও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানে গিয়ে যাত্রীদের বাড়তি সময় ব্যয় করতে না হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সভায় জানান, “হজ গমনেচ্ছুদের সেবা দেওয়া আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এবার হজের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ডেটা কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপডেট রাখা হচ্ছে। যারা হজ পালনে যাচ্ছেন, তাদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
হজ গমনেচ্ছুদের করণীয়
হজ অফিসের পক্ষ থেকে হাজিদের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে: ১. নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। ২. পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে। ৩. স্মার্টফোন বা ট্যাবে ‘ই-হজ’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে তাতে যাবতীয় তথ্য নিয়মিত চেক করতে হবে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
ধর্মীয় ও হজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ অনুষ্ঠিত সভায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হজ ক্যাম্প এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে হাজিরা নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
প্রযুক্তি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম অতীতের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক ও সফল হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।