
এম এ রশীদ, বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৪ ধারা
অমান্য করে সরকারি জায়গা এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে বালু উত্তোলনের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের অন্যতম এই ইটভাটা ‘কুশিয়ারা অটো ব্রিকস’ লিমিটেড উন্নত মানের ইট তৈরির মাধ্যমে সুনাম অর্জন করলেও, বর্তমানে তারা জামাতের প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী চক্রের হাতে জিম্মি। চক্রটি ইটভাটার খরিদকৃত ৮৬ শতক জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই মহাসড়কের নিচ দিয়ে অবৈধ পাইপলাইন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে তারা। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারি অবকাঠামো ও পরিবেশ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
কুশিয়ারা অটো ব্রিকস্ লিমিটেড এর ম্যানেজার আজাদ চৌধুরী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে ওই চক্রটি তাদের ৮৬ শতক জায়গা জবরদখল করে নেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই ব্রিক ফিল্ড লিমিটেডটি আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত মানের ইট উৎপাদন করলেও,স্থানীয় জামাতের প্রভাবশালী নেতাদের পেশিশক্তির কাছে আজ আমরা অসহায়। আমাদের খরিদকৃত জায়গা উদ্ধারে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রভাবশালী মহলের বাধার মুখে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি।” খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সওজের জায়গা এবং ইটভাটার জমি থেকে বালু উত্তোলনের পাইপ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বের বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মোস্তফা মুন্না ২ বার এবং বর্তমান ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার বর্তমানে অবৈধ পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করলেও, দখলদাররা প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার সাথে সাথেই পুনরায় পাইপ সংযোগ স্থাপন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে প্রশাসনের নির্দেশনাকে তারা বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।কুশিয়ারা অটো ব্রিকফিল্ড লিমিটেডের ম্যানেজার আজাদ চৌধুরী আরও জানান, ৮৬ শতক জায়গা উদ্ধারের জন্য তারা এডিএম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনবার ১৪৪ ধারা জারি করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন, যেখান থেকে ৬ মাসের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশকেও তোয়াক্কা করছে না বালু দস্যুরা। উল্টো অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় আজাদ চৌধুরীসহ ইটভাটার কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সওজের অনুমতি ছাড়া মহাসড়কের নিচ দিয়ে এভাবে পাইপলাইন বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে সড়ক ও জনপদের অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এমতাবস্থায় বৈধ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে এবং বালু দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এবং সিলেট -৬ আসনের সাংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন । উল্লেখ্য -যে কুশিয়ারা অটো ব্রিকস লিমিটেড ফ্যাক্টরি টি এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্রঃ দৈনিক আজকের বসুন্ধরা