
এমএফএইচ রাজু | ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
সারাদেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে উপজেলার ১৭ হাজার ৭০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে একটি স্থায়ী কেন্দ্র ও ১৬৮টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১৬৯টি কেন্দ্রে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় তিনি বলেন, শিশুদের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। উপজেলার কোনো শিশু যেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারিয়ায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২ হাজার ৮৭ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৫ হাজার ৮৮৯ জন শিশুসহ মোট ১৭ হাজার ৯৭৬ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম ফরাজী জানান, ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ২ হাজার ৫৭ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১৫ হাজার ৬৪৩ জন শিশুসহ মোট ১৭ হাজার ৭০০ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে৷
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনোলজিস্ট (এমটিইপিআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় শতভাগ শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইব্রাহিম মোল্যা বলেন, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার ১৬৯টি কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। কোনো শিশু যদি এদিন ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারে, তবে পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করতে পারবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ধারিত বয়সী সব শিশুকে এ ধরনের স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পেইন কেন্দ্রগুলো ছিল মুখর। স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খল পরিবেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।