সোমবার ৮ই জুন, ২০২৬ ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলা: ৩ বারের সফল মেম্বার নান্নুকে রাজনৈতিক ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা

[print_bangla]

মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি-

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানায় দায়েরকৃত বহুল আলোচিত মো. মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলায় ৫নং আসামী ও নওগাঁ সদরের তিলকপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি মো. ইয়াছিন আলী নান্নুকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ নিজেদের ফায়দা লুটতে এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন থেকে তাঁকে দূরে রাখতেই এই চক্রান্ত করেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে তিলকপুর এলাকায় মাসুম বিল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর, ২৭ মে আক্কেলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (কেস নং- ১৯/৭৩)। উক্ত মামলায় তিলকপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পর পর ৩ বারের নির্বাচিত সফল মেম্বার এবং আগামী ইউপি নির্বাচনের শক্তিশালী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো.ইয়াছিন আলী নান্নুকে ৫নং আসামী করা হয়।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, মো. ইয়াছিন আলী নান্নু একজন পরিচ্ছন্ন, জনপ্রিয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি প্রভাবশালী বিরোধী চক্র পর্দার আড়াল থেকে উস্কানি দিয়ে মামলার বাদীপক্ষকে বাধ্য করেছে তাঁর নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করতে। প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং নির্ভর যোগ্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় এবং ঘটনাস্থলে মো. ইয়াছিন আলী নান্নু আদৌ উপস্থিত ছিলেন না। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগী মো. ইয়াছিন আলী নান্নু জানান, “আমি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কোনো ভাবেই জড়িত নই। আমার কাছে শত প্রমাণ আছে। যে সময় ঘটনাটি ঘটে, তখন আমি ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে রেলস্টেশন এলাকার একটি চা-স্টলে অনেক বন্ধু-বান্ধব নিয়ে চা খাচ্ছিলাম।”
​তিনি নিজে এই নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা প্রকৃত জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন এমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্রান্তের শিকার হয়ে শাস্তি না পান। তদন্তে যদি আমার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র সত্যতা মেলে, তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইন যে শাস্তি দেবে আমি তা মাথা পেতে নেব। ​প্রধান সাক্ষী রাজের চাঞ্চল্যকর বক্তব্য, ঘটনার দিন নিহত মাসুম বিল্লাহ এবং তাঁর বন্ধু রাজ একই মোটর সাইকেলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা পিছন থেকে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার প্রধান সাক্ষী ও মাসুমের বন্ধু রাজের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। ​রাজ জানান, “ঘটনাস্থলে ১০ থেকে ১২ জন যুবক তাঁদের ওপর আক্রমণ করে, হামলাকারীদের মধ্যে তিনি একজনকে চিনতে পেরেছেন, যার নাম শিবলু। এই শিবলুই হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সর্বপ্রথম আঘাত করে। বাকি হামলাকারীদের রাজ চিনতে পারেননি।” ​মামলার ৫নং আসামী ইয়াছিন আলী নান্নু মেম্বার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কিনা-এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে প্রধান সাক্ষী রাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নান্নু মেম্বার সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।” নিহত মাসুমের এই বন্ধুও প্রশাসনের কাছে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে এই নৃশংস অপরাধের সাথে জড়ানোর ঘটনায় তিলকপুর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মো. ইয়াছিন আলী নান্নু এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা এই মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সাথে তাঁরা মামলাটির সঠিক, নিরপেক্ষ, তথ্য প্রমাণ ভিত্তিক এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলা: ৩ বারের সফল মেম্বার নান্নুকে রাজনৈতিক ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা

০৮ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top