
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং প্রসবকালীন মৃত্যুঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আজ থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন—‘নিরাপদ মাতৃত্ব, সুস্থ শিশু’। বিশেষ করে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনপদের গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম
দেশজুড়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় নিম্নোক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে:
-
গর্ভকালীন পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ: প্রত্যন্ত অঞ্চলের মায়েদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিশেষ পুষ্টি কার্ড বিতরণ ও পরামর্শ প্রদান।
-
প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের গুরুত্ব: বাড়িতে নয়, বরং প্রশিক্ষিত ধাত্রী বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের সুবিধা ও গুরুত্ব নিয়ে উঠান বৈঠকের আয়োজন।
-
ঝুঁকি শনাক্তকরণ: গর্ভকালীন জটিলতাগুলোর লক্ষণ (যেমন- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, উচ্চ রক্তচাপ) সম্পর্কে মায়েদের সচেতন করা, যাতে তারা দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে পারেন।
-
নতুন মা ও শিশুর পরিচর্যা: প্রসব পরবর্তী সময়ে মা ও নবজাতকের যত্নে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সে বিষয়ে ভিডিও প্রদর্শন ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ।
কেন এই ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সচেতনতার অভাব এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সময়মতো বিশেষজ্ঞ সেবা না পাওয়ার কারণে এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রসবকালীন মৃত্যুঝুঁকি রয়ে গেছে। এই ক্যাম্পেইনটি সরাসরি মায়েদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে।
নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমাদের লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অংশ হিসেবে মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি গ্রামে একজন ‘স্বাস্থ্য-দূত’ তৈরি করতে চাই, যারা মায়েদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন।”
ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, “পুষ্টি এবং প্রাথমিক সচেতনতাই হলো মাতৃস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি। আমরা গ্রামীণ মায়েদের মনে এই বিশ্বাস জন্মাতে চাই যে, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা এখন অনেক সহজ এবং নিরাপদ।”
স্থানীয় পর্যায়ে সাড়া
আজ উদ্বোধনের প্রথম দিনেই সারাদেশের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে বিপুল সংখ্যক গর্ভবতী নারী ও তাদের স্বজনরা উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পেইন সফল করতে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক এবং এনজিও কর্মীদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছেন।
আগামী এক মাসব্যাপী এই কার্যক্রম প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।