
আজিজুর রহমান মুন্না, সিরাজগঞ্জ-
সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জে খেজুরের রস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের কন্যাসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারা দণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১’লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ম আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের সুজাত আলী ওরফে টুক্কা, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন, তাদের মেয়ে ফাতেমা খাতুন এবং সলঙ্গা থানার দেওভোগ গ্রামের হায়দার আলী ও একই গ্রামের সেলিমের স্ত্রী হোসনে আরা খাতুন।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহানশাহ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ মামলায় মোট ১০জন আসামির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলেছে। এর মধ্যে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জসের আলী, আল-আমিন, আশরাফ আলী, রফিকুল ইসলাম ও সবুরকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হাসনা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শেখ পেশায় একজন খেজুরের রস ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতেন। ব্যবসার সুবাদে রায়গঞ্জ উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামে সুজাত আলী ওরফে টুক্কার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি টুক্কার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে অবস্থানকালে টুক্কার মেয়ে ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে জাহাঙ্গীর শেখের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এর কিছুদিন পর, ২০০৭ইং সনের ৩ এপ্রিল জাহাঙ্গীর শেখকে হত্যা করে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় সুজাত আলী ওরফে টুক্কাসহ ১০জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ইং সনের ৫’মে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ ১৮বছর বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও আইনি কার্যক্রম শেষে আদালত সোমবার বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি পাঁচজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। জে/এ
