রবিবার ২১শে জুন, ২০২৬ ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে ষাটোর্ধ কৃষকদের মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশন সহ ৮ দফা দাবিতে গ্রামীণ মজুর সমাবেশ

[print_bangla]

মাকসুদুল হক, হরিনাকুন্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি-

শনিবার ২০ জুন ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন এ ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। সমাবেশে ৮ দফা দাবিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক, ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ, ন্যায্য মজুরি, পেনশন, রেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থানসহ গ্রামীণ মজুরদের পরিবারদের মানুষের মতো বেঁচে থাকার জন্য উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
১। পল্লী রেশনিং চালু করে ন্যূনতম দামে চাল, ডাল, তেল, লবন, আটা, চিনি প্রকৃত দরিদ্র মজুরদের সরবরাহ করতে হবে।
২। ষাটোর্ধ্ব মজুরদের বিনা জমায় মাসিক দশ হাজার টাকা পেনশন দিতে হবে।
৩। গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘১০০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি’ পুনরায় সকল উপজেলায় চালু, বাজারদর অনুযায়ী মজুরি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৪। ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স নিয়োগ ও ঔষধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৫। ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা শেষে চাকুরির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া ভোকেশনাল ও আইটি ট্রেনিং দিয়ে সরকারি খরচে বিদেশে চাকুরি দিয়ে পাঠানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৬। বিধবা ভাতা, দুঃস্থ মাতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হবে।
৭। সকল ভূমিহীন ও বাস্তুহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রামের আদলে সরকারি খরচে বিনা ঘুষে ঘর নির্মাণ করে দিতে হবে।
৮। ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি অনুযায়ী হাওড়-বাঁওড়-বিল-খাস জলাশয় ও জলমহালসমূহের ইজারা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করে জেলে-মজুর-ভূমিহীনদের ন্যায়সঙ্গত সামাজিক মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। মৎস্যজীবীদের অনুকূলে ও জাতীয় স্বার্থে জলমহাল ব্যবস্থাপনা আইন সংশোধন করতে হবে। জলমহালে মাছ চাষে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের অর্থায়নে ও জেলেদের সাথে ন্যায্য উৎপাদনের অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে হবে।
আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুর, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য কর্মসংস্থান, রেশন, পেনশনসহ অন্যান্য খাতে কোন বরাদ্দ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষেতমজুর সমিতি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারের কাছে দেশের সিংহভাগ মানুষের পক্ষের বাজেটের দাবি করে আসছিল বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। কিন্তু এবারও অন্যান্য সরকারের মতোই গ্রামের দরিদ্র, শ্রমজীবী, ক্ষেতমজুরদের জন্য বাজেটে তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ সরকারের দেওয়া এই বৃহৎ আকারের বাজেটের কোন সুফল পাবে না। এছাড়া সমাবেশ থেকে পানিতে তলিয়ে ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের যথাযথ ক্ষতিপুরণ দেওয়ার দাবি করা হয়।
চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির ফলে ক্ষেতমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যেন চলছে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটের অর্থের বড় অংশ আসে এসব দরিদ্র মানুষের করের টাকা থেকে। ফলে তাদের জন্য বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখতে হবে। এবার মোট বাজেটের ৫.৮ শতাংশ রাখা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। অথচ দেশের সিংহভাগ মানুষ এই সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়ার কথা। কিন্তু এ সামান্য বরাদ্দে এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসবে না। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন চাকুরিজীবীদের পেনশন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন খাত যুক্ত আছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ আরো কম হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং চালু করে ন্যূনতম দামে চাল, ডাল, তেল, লবন, আটাসহ নিত্যপণ্য দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও বাজেটে তা উপেক্ষিত হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষগুলোর বয়স হয়ে গেলে তখন তারা কাজ করতে পারেন না। বয়স্ক এসব মানুষদের বিনা চিকিৎসায়, খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। এসব মানুষের জীবন বাঁচাতে ষাটোর্ধ্ব মজুরদের বিনা জমায় মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশনের দাবিটিও বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত, মজুরদের সন্তানদের কারিগরি ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে কাজ দিয়ে পাঠানোর জন্যও বাজেটে কোন দিকনির্দেশনা নেই। ফলে বেকারত্ব বাড়বে, দরিদ্র মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা পাবে না। সন্তানদের পড়াশোনাও হবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্মক্ষম সন্তানদের ভোকেশনাল ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি করা হয়।
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির ৭ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন কমিটির উদ্যোগে শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩ টায় ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া বাজারে গ্রামীণ মজুর সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক, কেন্দ্রীয় সদস্য; জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজন বিপ্লব, ক্ষেতমজুর সমিতির নেতা আবু তোয়াব অপু, কৃষক সমিতির নেতা তোফাজ্জেল হোসেন লস্কর, ক্ষেতমজুর সমিতির ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে ষাটোর্ধ কৃষকদের মাসিক ১০ হাজার টাকা পেনশন সহ ৮ দফা দাবিতে গ্রামীণ মজুর সমাবেশ

২১ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top