
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি-
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আগামী সোমবার চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড (বিসিসিএল)-এর চেয়ারম্যান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন। অনুষ্ঠানে সিইআইজেড প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হবে। এতে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এ প্রকল্পের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন অনুমোদন দিয়েছে। বেজার বাস্তবায়নে জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট সুবিধার আওতায় এ অর্থায়ন প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। প্রকল্পটি চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে সিইআইজেড দেশের শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জে/এ
